রাজধানীর পল্লবীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী পরিবারের নারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় সমর্থন বিবেচনায় না নিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে যোগ্য পরিবারের নারীদের এই সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক।
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবের অবকাশ নেই। ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শ বা মতাদর্শে বিশ্বাসী পরিবারের নারীরাও সমানভাবে এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের নাম, বাবার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন। তথ্য সংগ্রহের এই কাজ সমাপ্ত হলে যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের মধ্যেই সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পর্যায়ক্রমে এই কল্যাণমুখী কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত করা হবে।
উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর স্থায়ী পুনর্বাসন
অনুষ্ঠানে পল্লবী ও রূপনগরের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে উর্দুভাষীদের স্থায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে কুচক্রী মহলের অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, এ বিষয়ে কারও কোনো প্রশ্ন বা সংশয় থাকলে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকৃত তথ্য জেনে নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দ ও নাগরিক উন্নয়ন
পল্লবী ও রূপনগর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির বিভিন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পল্লবীর আলীনগরে একটি আধুনিক সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ একর জমি বরাদ্দের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ছাড়া এলাকার দীর্ঘদিনের তীব্র পানীয় জলের সংকট নিরসনে নতুন পাম্প স্থাপন, রাস্তাঘাট সংস্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে দখল হয়ে যাওয়া এলাকার বিভিন্ন খেলার মাঠ উদ্ধার করে সেগুলোকে তরুণ ও যুবকদের উপযোগী পরিবেশে ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দলের নাম ভাঙিয়ে অন্যায় করলে ছাড় নয়
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে সরকারের ও দলের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অন্যায় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার ও দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের প্রোপাগাণ্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রতিহিংসার রাজনীতির চির অবসান ঘটিয়ে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


