আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন আরো সঠিকভাবে তুলে ধরতে প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্র পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪ ভোটে পাস হয়েছে। টোগোর উদ্যোগে উত্থাপিত ‘মানচিত্র সংশোধন’ শীর্ষক প্রস্তাবটি আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর সমর্থন পায়। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ অধিকাংশ দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট দেয়; ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
প্রস্তাবটি বাধ্যতামূলক না হলেও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত মানচিত্রে পরিবর্তন আনার পথ তৈরি করবে। ১৬শ শতাব্দী থেকে বহুল ব্যবহৃত ‘মারকেটর প্রজেকশন’ মানচিত্রে মেরু অঞ্চলের দেশগুলোকে তুলনামূলক বড় এবং বিষুবীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ছোট দেখানো হয়। ফলে আফ্রিকার আয়তন বাস্তবের তুলনায় অনেক কম মনে হয়। উদাহরণ হিসেবে, আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড় হলেও প্রচলিত মানচিত্রে দুই অঞ্চলকে প্রায় সমান আয়তনের মনে হয়।
এ বিকৃতি দূর করতে ২০১৮ সালে কার্টোগ্রাফারদের একটি দল ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে সমান-আয়তনভিত্তিক নতুন মানচিত্র তৈরি করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের ৫৪টি সদস্য দেশ মানচিত্রটি গ্রহণ করে।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসি বলেন, ‘ন্যায্য বিশ্ব শুরু হয় একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে।’ ফ্রান্সও মারকেটর মানচিত্রের ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের প্রস্তাবটির সমালোচনা করে বলেছে, বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে সাধারণ পরিষদ ১৬শ শতাব্দীর মানচিত্র নিয়ে আলোচনা করছে।
আফ্রিকান ভূগোলবিদ ও অধিকারকর্মীদের মতে, মানচিত্রের এই বিকৃতি শুধু কার্টোগ্রাফির সমস্যা নয়; এটি আফ্রিকার সম্পদ, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে মানুষের ধারণাকেও প্রভাবিত করে। তাদের ভাষায়, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক অবস্থান দেখায় না—এটি একটি অঞ্চল সম্পর্কে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধারণা গড়ে তোলে।
সূত্র: বিবিসি
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


