আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ট্রান্সকমের শেয়ার আত্মসাৎ

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার দুই ঘণ্টার মধ্যেই জামিন সিমিন রহমানের

স্টাফ রিপোর্টার

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার দুই ঘণ্টার মধ্যেই জামিন সিমিন রহমানের

ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও সিমিন রহমান ও তার মা শাহনাজ রহমান। এর আগে শুনানিতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এর দুই ঘণ্টা পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।

গতকাল বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ মামলার ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত না থাকায় সিমিন রহমান, শাহনাজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রায় দুই ঘণ্টা পর সিমিন রহমান ও শাহনাজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তারা কালো বোরকা পরে, মুখ ঢেকে আদালতে উপস্থিত হন। পরোয়ানাভুক্ত আরেক আসামি হলেন ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।

মামলায় অন্য তিন আসামি ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের আইনজীবী স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শাযরেহ হক বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিমিন রহমানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এই বোর্ড মিটিংয়ে তৃতীয় এজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে তার বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি, ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে ৪ হাজার ৭২০টি শেয়ারসহ সর্বমোট ২৩ হাজার ৬০০টি শেয়ার হস্তান্তর করা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র গ্রেপ্তারি পরোয়ানার দুই ঘণ্টার মধ্যেই সিমিন রহমানের আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হয়। সে বছরের ১৭ আগস্ট শেয়ার হস্তান্তর হলেও আরজেএসসি নিয়ম অনুযায়ী ফি পরিশোধ না করে বিলম্বে সে বছরের ২ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষকে সশরীরে উপস্থিত থেকে আরজেএসসির প্রতিনিধির সম্মুখে উভয় পক্ষকে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।

এছাড়া, ২০২০ সালে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশিরভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কোম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটলমেন্ট তৈরি করেন। এ জন্য সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প অ্যাফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশিরভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করে আরজেএসসিতে দাখিল করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন