গার্মেন্টসকর্মীকে হত্যার দায়ে প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

গার্মেন্টসকর্মীকে হত্যার দায়ে প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

প্রায় ৬ বছর আগে ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অ্যাপারেলস গার্মেন্টস লিমিটেড ফ্যাক্টরির অপারেটর শাহিনা খাতুনকে হত্যার দায়ে প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার দুপুরে ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মুনির হোসেনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজীব এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায়ে দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার আগে শরিফুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলা-সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় শাহিনা ও শরিফুল গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। বিবাহবহির্ভূত অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে তারা ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। শরিফুল বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। শাহিনা শরিফুলকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে শরিফুল তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া ও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শরিফুল। এরপর লাশটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরে রেখে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায় সে। তিন দিন পর আশপাশের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে শাহিনার লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় শাহিনার ভাই মো. রাহিন ২২ মার্চ আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পাঁচ মাস পর শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে শরিফুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর শরিফুলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. ফজল আলী। ২০২২ সালের ৭ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন