ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ এলাকায় গৃহবধূ ফারজানা আক্তার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তার ভাসুর মো. সবুজ খলিফাকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মাহফুজুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। কেরানীগঞ্জ জিআর শাখার এসআই আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক তাপস কুমার কুন্ডু আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে আদালত ওই আদেশ দেন। এর আগে, চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ফারজানা আক্তার চিকিৎসার জন্য স্বামীর সঙ্গে ঝালকাঠি থেকে ঢাকায় এসে কেরানীগঞ্জের ওই ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বাসায় অন্য কেউ না থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে বলেন, আসামি সবুজ খলিফাকে গ্রেপ্তারের ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তারকে হত্যার ব্যাপারে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন, অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তারের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরে। গত জানুয়ারির ১৮ তারিখ সে তার স্বামী রিফাতের সাথে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসে। তারপর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে খেজুরবাগের শ্বশুরের ভাড়া বাসায় অবস্থান করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ভুক্তভোগী ফারজানা তার মাকে ফোনে জানায় বাসায় তার জামাই এবং শ্বশুর কেউ নেই শুধুমাত্র ভাসুর সবুজ আছে।
পরবর্তীতে রাত ৯ টায় বাদীকে তার ছোটো মেয়ের জামাই আল আমিন ফোন দিয়ে জানায় যে ফারজানার বড় বিপদ হয়েছে। তাৎক্ষণিক ভুক্তভোগীর মা খবর শুনে গাড়ি না পাওয়ার ঘটনাস্থলে আসতে পারেন না। তবে সাথে সাথে অন্য আত্মীয়-স্বজন সেখানে পাঠালে তারা পরদিন দুপুর ২ টায় ঘটনাস্থলে আসে। তার ছোটো মেয়ের জামাই আল আমিন ঘটনাস্থলে এসে ফারজানা আক্তারের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড পাঠায়।
মামলার বাদী মাকসুদা আক্তার অভিযোগ করেন, বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে ফারজানা আক্তারকে তার ভাসুর সবুজ খলিফাসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন মাথায় আঘাত করে এবং গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনার পর আসামি সবুজ খলিফা বোরকা পরে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজনের হাতে চোর সন্দেহে ধরা পড়েছিলেন। তখন লোকজন তাকে সামান্য মারধর করে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৯ জানুয়ারি মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

