আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ট্রাইব্যুনালে জেরায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া

সেনাপ্রধান হিসেবে আমার নির্দেশ জিয়াউল আহসান মানত না

স্টাফ রিপোর্টার

সেনাপ্রধান হিসেবে আমার নির্দেশ জিয়াউল আহসান মানত না
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। ফাইল ছবি

জেনারেল ইকবাল কমির ভূঁইয়া বলেছেন, তিনি সেনাপ্রধান থাকাকালে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান তার নির্দেশ অমান্য করতেন। তবে তিনি জিয়াউলের বিষয়ে তদন্তে গোয়েন্দা পরিদপ্তরের কাউকে বলেননি।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জিয়াউলের আইনজীবী আবুল হাসানের জেরায় এসব কথা বলেন তিনি। শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

বিজ্ঞাপন

তাকে জেরা করেন আইনজীবী আবুল হাসান। জেরায় তিনি ইকবাল করিমকে প্রশ্ন করেন, সেনাপ্রধান হিসেবে জিয়াউল আপনার আদেশ অমান্য করেননি। জবাবে তিনি বলেন, এই কথা সত্য নয়।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল করিম জানান, দুজন সেনা অফিসারের অপকর্মের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের সেনাবাহিনীতে ফেরত চেয়েছিলেন কিন্তু জিয়াউল তাদের ফেরত দেয়নি। তখন জিয়াউল র‌্যাবের এডিজি (অপস) হিসেবে কর্মরত ছিল। এরপর তিনি জিয়াউলকে সেনানিবাসে পারসন নন গ্রাটা (পিএনজি) করেন।

আবুল হাসান প্রশ্ন করেন, মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিকী ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে কী কী নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? জবাবে ইকবাল বলেন, এখন মনে করতে পারছেন না। তখন আপনি সেনাপ্রধান থাকাকালে কেনাকাটা সংক্রান্ত দুর্নীতি হয়েছিল। আপনি এবিষয়ে তদন্ত করেছেন? জবাবে তিনি জানান, তদন্ত করা হয়নি। এরপর আবুল হাসান প্রশ্ন করেন, আপনি নিজে এই কেনাকাটায় যুক্ত ছিলেন এবং এই কারণে কোনো তদন্ত করেননি। জবাবে তিনি জানান, এই কথা সত্য নয়।

আবুল হাসান প্রশ্ন করেন, সেনাবাহিনীতে ইঞ্জিনিয়ার কোরের অনেক সদস্য ছিল, তাদের কারো নাম মনে আছে? জবাবে তিনি বলেন, না মনে নেই। পরের প্রশ্নে আবুল হাসান বলেন, অফিসারদের অবৈধ অর্থের উৎস শনাক্ত করে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কিনা? জবাবে তিনি বলেন, করিনি, কারণ তা আমার এখতিয়ারের বাইরে।

অন্য এক প্রশ্নে আবুল হাসান বলেন, কর্নেল মুজিবকে ক্রসফায়ার বন্ধের উদ্যোগ নিতে কোনো লিখিত আদেশ দিয়েছেন কিনা? জবাবে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, আমি মৌখিক আদেশ দিয়েছিলাম। তখন আবুল হাসান প্রশ্ন করেন, ডিজিএফআইয়ের সেলে যে সকল রাজবন্দিদের রাখা হতো তা আপনি দেখেছেন কিনা? জবাবে তিনি জানান, আমি দেখিনি। আমি ডিজিএফআইয়ের অফিসে দুদিন গিয়েছিলাম। তবে অফিসের বাহিরে যাইনি।

আবুল হাসান প্রশ্ন করেন, র‌্যাবে যে দুজন সেনা অফিসারকে কিলিং মিশনে যেতে বললে তারা না গিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে এসে এমপিও চেকপোস্টে রির্পোট করেন, তাদের নাম মনে আছে? জবাবে তিনি বলেন, মনে নেই। তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয়েছে কিনা জানি না। আবুল হোসেন প্রশ্ন করেন, আপনি আপনার জবানবন্দির মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। জবাবে তিনি বলেন, এই কথা সত্য নয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন