শিশু রামিসা হত্যা

সোহেল দায় স্বীকার করলেও নির্দোষ দাবি স্বপ্নার

স্টাফ রিপোর্টার

সোহেল দায় স্বীকার করলেও নির্দোষ দাবি স্বপ্নার

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন সোহেল রানা। তবে তার স্ত্রীর স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

দুই আাসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বুধবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। কাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের দিন ঘোষণা করবেন বিচারক।

বুধবার সকাল পৌনে ১১ টায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আদালতে তোলা হয়। এর কিছুক্ষণ পর বেলা ১১টা ১০ মিনিটে এজলাসে উঠেন বিচারক মাসরুর সালেকীন। এজলাসে উঠেই দুই আসামিকে উদ্দেশ্য করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ও ১৬ জন সাক্ষীর দেয়া সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে পড়ে শোনান বিচারক।

অভিযোগ পড়া শেষে বিচারক আসামি সোহেল রানাকে প্রশ্ন করেন, "আপনি দোষী না নির্দোষ।" জবাবে সোহেল বলেন, “স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমার সঙ্গে ডলার ছিল, সেটা কেউ দেখেনি। তাকেও ধরেন স্যার, আমিও দোষী, সেও তো দোষী। আমার একটা ছাওয়াল আছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি নির্দোষ, খালাস চাই।"

পরে অপর আসামি স্বপ্না খাতুনকে বিচারক বলেন, “আপনার স্বামী এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আপনি বাসায় ছিলেন, তাকে বাধা দেননি। তাই আপনার স্বামীর যে শাস্তি হবে, আপনারও তাই হবে।” জবাবে স্বপ্না বলেন, “স্যার, আমি নির্দোষ। আমি কিছু করিনি।”

এরপর আদালত রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

পরে আদালত থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সোহেল রানা। আবার সহযোগী হিসেবে ডলারের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে সে। মূলত মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করতেই চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছেন আসামি সোহেল।

তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়ে সোহেল রানা তার অপরাধের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। এ বিষয়টি আদালতে নজরে এনেছি আমরা।

অপরদিকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ বলেন, আদালতে আসামি স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও দায় স্বীকার করেছেন সোহেল রানা। এ মামলায় কোন সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করবেনা আসামিপক্ষ।

এর আগে গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

পরদিন ২ জুন এ মামলায় টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তারসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ঘটনার লোমহর্ষক তথ্য উঠে আসে। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন