নেপালে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারাই সরকার গঠন করেছে, কারণ সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বা ভাই-ব্রাদার সংস্কৃতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি বলেন, “ঢাবিয়ানরা আল্লাহর ওয়াস্তে মন খারাপ কইরেন না। আপনারা অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন। জুলাইয়ের পরে ইমাম, মাস্টারমাইন্ড, মুয়াজ্জিন, নয় দফার ঘোষক—কে কারে আশ্রয় দিছে, কে কারে মোবাইল কিনে দিছে—এসব নিয়ে চরম মাত্রার পাগলামি করা হয়েছে।”
আম্মার বলেন, সে সময় তিনি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তখন পোষ্য কোটা আন্দোলন চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় পর্যায়ের অনেক নেতা এসব বিষয় নিয়েই এত ব্যস্ত ছিলেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে শক্ত কোনো আওয়াজ তোলার সময় পাননি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ঢাবির কোনায় কোনায় জুলাই নিয়ে কোটি কোটি টাকার কালচারাল প্রোগ্রাম হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে দিনের পর দিন আমাদের অভ্যুত্থানের নেতাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য ঘুরেছি। এতোটাই উপেক্ষিত ছিলাম যে আমার সব ঠিক আছে, হয়তো একটাই ভুল—আমি ঢাবিতে চান্স পাইনি।”
নেপালের ‘জেন-জি সরকারকে’ শুভকামনা জানিয়ে রাকসু জিএস বলেন, “অভ্যুত্থানের নেতারা যে দলই বানাবে সেটাই আমার প্রাণের সংগঠন।” তবে সেই সময়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভাই-ব্রাদার তৈরির রাজনীতির বদলে যদি মানুষকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হতো, তাহলে অনেক কর্মী হারাতে হতো না।
তিনি আরও বলেন, ফ্যান-ফলোয়ারের ভিত্তিতে মূল্যায়নের সংস্কৃতির কারণেই অনেক কর্মী ধীরে ধীরে সংগঠন থেকে দূরে সরে গেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

