হাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার বিচারে বিলম্ব

প্রতিনিধি, হাবিপ্রবি

হাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার বিচারে বিলম্ব

গত বছরের ১৬ জুলাই এর ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন অবস্থায় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এম.এম মাসুদ রানা মিঠুর নেতৃত্বে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় প্রায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

বিজ্ঞাপন

৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর আওয়ামী সমর্থিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পদত্যাগ করলে নতুন প্রশাসন নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন প্রশাসন নিয়োগ হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচারের দাবি করে আসছিলেন। যার প্রেক্ষিতে গত বছরের ১১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ও তৎপরবর্তী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড,অস্ত্র উদ্ধার ও বিভিন্ন সহিংস ঘটনার তথ্য উদঘাটনের জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি সত্যান্বেষণ কমিটি গঠন করেন। কিন্তু সত্যান্বেষণ কমিটি গঠনের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সেসব হামলাকারীদের এখনও শনাক্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে হামলাকারীদের ফুটেজ সরবরাহ ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী একাধিক শিক্ষার্থী প্রশাসন বরাবর হামলাকারীদের তালিকা জমা দিলেও এখন উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।

হামলাকারীদের শনাক্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সময়ক্ষেপণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ভিসি স্যারের সাথে একাধিক বার বসেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্কার,জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাবিপ্রবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ১৫, ১৬ জুলাই ছাত্রলীগ কর্তৃক হামলাকারীর বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলো থেকে দুই ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার সেই প্রেক্ষিতে বিগত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ যারা জড়িত তাদের নামে অস্ত্র মামলা দেয়ার জন্য আমরা বারবার বলে আসছি। কিন্তু তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির নামে একটা তামাশা শুরু করেছে। ৮-৯ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলাকারীসহ কারও ব্যাপারে ন্যূনতম পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নিতে পারেনি। এটা আমাদের জন্য এবং হাবিপ্রবির জন্য লজ্জার। এমন ফ্যাক্টফাইন্ডিং কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধিক্কার জানাই আমরা। বর্তমান প্রশাসন যাদের রক্তের ওপর ভর করে বড় বড় পদগুলো দখল করেছে, তারাই আজ বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শেখ রিয়াদ বলেন, গত ৬ মাসেও প্রশাসন জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন। শুধু তাই নয় হল হতে উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর ব্যাপারে সঠিক তদন্ত করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ তারা। বর্তমান প্রশাসন শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের কোন অনুভূতি অন্তরে ধারণ করে বলে আমাট মনে হয় না। তাদের মনে রাখা দরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তের বিনিময়ে তারা আজ চেয়ারে বসেছে। কিন্তু তারা গত ৬ মাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য তেমন কোনো দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ নেয়নি। যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভীষণভাবে হতাশ করেছে । তারা বিপ্লবের মাধ্যমে চেয়ারে বসলেও তাদের মাঝে বিপ্লবী চিন্তা নেই।সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনা নেই। সব জায়গায় কেমন যেন ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির হাবিপ্রবি শাখা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বার্নাড পলাশকে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সত্যান্বেষণ কমিটির সভাপতি ড. আবু সাঈদ মন্ডলের সাথে প্রথমবার যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, আমার কোনো বক্তব্য নেই, পরে কথা বলি। দ্বিতীয় দিন যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিককে তোমার পেশা কি? তোমার কি আর কোনো কাজ নেই? এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জেরা করতে শুরু করেন এবং সবশেষে তিনি বলেন, কথা বলতে হলে সামনাসামনি দেখা করতে হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন ধারণা নেই। তবে সত্যান্বেষণ কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে সেটি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সময় বেশি লাগতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এনামউল্ল্যা'র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি৷

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: