জকসু নির্বাচন স্থগিত প্রশাসনের, ভিসি ভবন ঘেরাও শিক্ষার্থীদের

জকসু নির্বাচন স্থগিত প্রশাসনের, ভিসি ভবন ঘেরাও শিক্ষার্থীদের

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিত করেছেন জবি সিন্ডিকেট। তবে ভোটগ্রহণের আগ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ জকসুর ভোটাররা শিক্ষার্থীরা। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভিসি ভবন অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর অজুহাতে উপাচার্য ড. রেজাউল করিম নেতৃত্বে বসা সিন্ডিকেট নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন নির্বাচন স্থগিত হচ্ছে। পরে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে উপাচার্য ভবন অবরুদ্ধ করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

এ সময় "সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মানিনা মানব না", "অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও" সিন্ডিকেটের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে"-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

জবি প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিনের একক সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়ে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রার্থীরাও প্রচারণা চালিয়েছে। ভোটাররাও এসেছেন। এই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত মানবেন না তারা।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফফাতুন নাহার নিশাত বলেন, "সবাই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েই ভোট দিতে এসেছি।সবার মধ্যে যে আমেজটা রয়েছে, পরে হলে সেটি থাকবে না। আর নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিকভাবেও একটা প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। যা এখন রয়েছে। তাই, আমরা চাই নির্বাচনটা হোক।"

একই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন সুচনা বলেন, "বার বার পেছানোর পর আজকের এ নির্বাচন। আমরা শিক্ষার্থীরাও ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। যেভাবেই হোক নির্বাচনটা হওয়া দরকার। প্রয়োজনে ফল ঘোষণা একদিন পর হোক। তারপরও নির্বাচন স্থগিত করা ঠিক হবেনা।"

মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শোয়েব বলেন, "এই মুহূর্তে এসে নির্বাচন স্থগিত করা কোনোভাবেই ঠিক হবেনা। এতদিন ধরে প্রচার-প্রচারণা চলেছে, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিয়েছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরও একটা প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এতে সরকারের একটা অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ফলে নির্বাচনের দিনে এসে ভোটগ্রহণ বন্ধ হলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হবে, কেউই মানবেনা।"

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন