গাজীপুরের টঙ্গীতে ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ পরিবহনের একটি বাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বাসচালক ও তার সহকারী ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হুমকির প্রতিবাদ করায় আরেক যাত্রীকে মারধরের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) পশ্চিম টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—বাসচালক মো. আ. হালিম (২৯) ও তার সহকারী মো. আমির হোসেন (৪৫)। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাইম ইসলামের স্ত্রী উত্তরা থেকে টঙ্গী যাচ্ছিলেন ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ পরিবহনের একটি বাসে। তিনি সংরক্ষিত আসনে বসে ছিলেন। এ সময় বাসচালক তাকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক ও অশ্লীল মন্তব্য করেন। বাসটি টঙ্গী সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির সামনে পৌঁছালে ওই নারী বাস থামাতে বলেন। চালক বাস না থামালে তিনি চিৎকার শুরু করেন। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় চালক তাকে বাসের ভেতরেই ধর্ষণের হুমকি দেন।
ঘটনাটি দেখে যাত্রী নুরনবী প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে গেলে চালক ও তার সহকারীর সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরে বাসটি হোসেন মার্কেট এলাকায় থামানো হলে ওই নারী বাস থেকে নেমে যান। তবে অন্য যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর নুরনবীকে রড দিয়ে মারধর করেন চালক, সহকারী ও অপর এক ব্যক্তি—এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় পরে বাসটি আটক করা হয়। ঘটনার পর চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেলেও একই পরিবহনের আরেক চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত চালক ও সহকারীকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জবি শিক্ষার্থী মো. নাইম ইসলাম পশ্চিম টঙ্গী থানায় ধর্ষণের হুমকির অভিযোগে মামলা করেছেন।
পশ্চিম টঙ্গী থানার ওসি মো. শাহীন খান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

