বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চলমান আন্দোলনকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের একদফা দাবিতে নিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীরা। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা । এই ঘোষণার পর উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।
রোববার প্রশাসনিক ভবন-০১-এর নিচ তলায় এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা এই ঘোষণা দেয়। সম্মেলন শেষে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
সম্মেলনে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সুজয় বিশ্বাস শুভ বলেন, গত ১৮ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দাবি স্পষ্ট, অবস্থান স্পষ্ট কিন্তু তবুও উপাচার্য একবারের জন্যও আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেননি। এটি শুধু অবহেলা নয়, গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করা।
তিনি বলেন, আমরা বারবার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছি, কিন্তু এখন স্পষ্ট ভাষায় বলছি ইউজিসি বা শিক্ষা উপদেষ্টা দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে আমরা দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।
এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, জরুরি সিন্ডিকেট সভা করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি ও দাবি-দাওয়া নিয়ে বসতে চাই।
উপাচার্য আরো বলেন, মুচলেকা দিলে নিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলা ও সাধারণ ডায়েরি থেকে মুক্তি পাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্যর এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বরিশাল মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, তিন সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা ন্যায্য দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। উপাচার্য চাইলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসতে পারতেন, কিন্তু তিনি একবারও সে চেষ্টা করেননি।
তিনি বলেন, আমরা তার সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাচ্ছি না । শুধু বলতে চাই আপনি বাস্তবতা মেনে নিন। আমাদের বিদ্যাপীঠকে মুক্তি দিন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী নাজমুল ঢালি বলেন, উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি জানালেও তিনি এ বিষয়ে কোনো ভ্রূক্ষেপ করেননি। আমরা অবিলম্বে এ ভিসির পদত্যাগ চাই ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

