চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে পরামর্শক কমিটি গঠন ইউজিসির

চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে পরামর্শক কমিটি গঠন ইউজিসির

মাত্র ৫৭ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তন ঘিরে আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন এবং শিক্ষা কার্যক্রম আবার চালুর লক্ষ্যে সুপারিশ দিতে ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে চিঠি দিয়ে এ কমিটি গঠনের আহ্বান জানায়।

বিজ্ঞাপন

পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে। কমিটির সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল ফোরকান, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ইউসুপ ইলাহী চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী এবং ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান (সদস্যসচিব)। এ ছাড়া ইউজিসির সহকারী পরিচালককে কমিটিকে সাচিবিক সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে।

ইউজিসি সূত্র জানায়, এই কমিটিকে চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসন ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন গণমাধ্যমকে জানান, কমিটি গঠনের বিষয়টি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত হয়েছেন। অফিসিয়াল চিঠি হাতে পেলেই চুয়েটের উদ্ভূত সংকট কাটাতে তারা দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করবেন।

এর আগে গত রোববার চুয়েটে চলমান সংকট সমাধান ও শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিতে ইউজিসিকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও পরামর্শক কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি জরুরি চিঠি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে গত ২৭ জুলাই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তারা আগের উপাচার্যের বহালের দাবি জানান। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। এক পর্যায়ে গত ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্য ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এসব ঘটনায় প্রায় এক মাস ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ সহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন