আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ঢাবির ক্যান্টিন ও খাবার দোকানে টেস্টিং সল্টের ছড়াছড়ি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

রাফিউজ্জামান লাবীব, ঢাবি

ঢাবির ক্যান্টিন ও খাবার দোকানে টেস্টিং সল্টের ছড়াছড়ি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হল, ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানগুলোতে স্বাদ বাড়ানোর নামে ব্যবহৃত হচ্ছে টেস্টিং সল্ট। চাইনিজ রান্নায় এই উপাদান ব্যবহৃত হলেও এখন সব খাবারেই দেওয়া হয়। পচা-বাসি খাবারকে মুখরোচক বানিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে টেস্টিং সল্ট দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ সুপ্ত অসুস্থতার দিকে ঢলে পড়ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, ‘স্নায়ু বিষ’ নামক এই রাসায়নিক ব্যবহারে মস্তিষ্ক ক্যানসারসহ ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্টিং সল্টে থাকে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট (এমএসজি) যা স্নায়ুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি খাবারের মাধ্যমে নিয়মিত গ্রহণ করলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মাথাব্যথা, বুকে চাপ, নিঃশ্বাসের সমস্যা, এমনকি পার্কিনসনস্‌ ও আলঝাইমার্সের মতো জটিল স্নায়ুরোগ দেখা দিতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি নিয়মিত গ্রহণ করে তা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে দুর্বল করে দিতে পারে।

পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে বলেন, শরীরের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, প্রিম্যাচিউর ডেথ, নার্ভের সমস্যাসহ নানামুখী সমস্যা তৈরি করে। এর প্রভাবে জিহ্বায় জড়তা তৈরি হয় এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। লবণের পাশাপাশি স্বাদ বাড়ানোর জন্য টেস্টিং সল্ট দিলে সেখানে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, ব্রেইন টিউমার দেখা দিতে পারে।

মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিয়া রহমান বলেন, টেস্টিং সল্টের পরিবর্তে শুধু খাবার লবণ ব্যবহার করা উচিত। কেননা, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক ক্ষতিকর।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ও হলের ক্যান্টিনগুলোতে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, খিচুড়ি, পোলাও, রোস্ট, মাংসের তরকারিতে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় মাছ, সবজি ও ডাল রান্নাতেও নির্বিচারে মেশানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী সানজিদা খানম বলেন, ক্যান্টিনের খাবারের স্বাদ একেবারেই অস্বাভাবিক লাগে। দু-তিনদিন টানা খেলে অনীহা চলে আসে। ক্যান্টিনে প্রায় সব খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করে ফলে মাছ-মাংস সব খাবারের স্বাদ একই মনে হয়।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রধান ভবনের ক্যান্টিনে বারবার বলার পরেও লুকিয়ে ব্যবহার করা হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। জহুরুল হক হলের ক্যান্টিনের রাঁধুনি সোহেল বলেন, শিক্ষার্থীরা খাবারে স্বাদ চায় তাই এটি মেশাই। তারা স্বাদও চায় আবার টেস্টিং সল্টও ব্যবহার করতে দেবে নাÑ এটা তো হয় না। এখন স্বাদ বাড়াতে তরকারিতে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ বেশি দেই।

শুধু এই ক্যান্টিন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি আবাসিক হলের অধিকাংশ ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানে এটি ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তারা বলেন, হল প্রশাসনের তদারকির অভাব এবং ক্যান্টিন মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভের কারণেই এই রাসায়নিক বিষযুক্ত খাবার খেতে হচ্ছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি আহ্বায়ক ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হলগুলোতে টেস্টিং সল্ট নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আমাদের কোনো বিধিমালা নেই। আমরা ক্যান্টিন বা ডাইনিংগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রান্না ও পরিবেশনার চেষ্টা করব এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখব।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেবে উল্লেখ করে ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা বলেন, হল প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকদের হলের ক্যান্টিন ও খাবারের দোকানগুলোতে গুণগতমান ও স্বাস্থ্যগত বিধান দেখভালের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। টেস্টিং সল্ট বা এ ধরনের ক্ষতিকারক পদার্থগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ তদারকির ক্ষেত্রে হল প্রশাসনের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন