জাবিতে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণকালে বহিরাগত যুবক আটক

জাবি প্রতিনিধি

জাবিতে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণকালে বহিরাগত যুবক আটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ওয়াশরুমে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের সময় এক বহিরাগত যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের মুঠোফোনে গত ছয় মাসে ধারণ করা একই ধরনের একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম রিয়াজ আহমেদ। তার বাড়ি কেরাণীগঞ্জের উত্তর বাহেরচর এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার খেলা দেখছিলেন শিক্ষার্থীরা। খেলা শেষে কয়েকজন ছাত্রী টিএসসির ওয়াশরুমে যান। এ সময় একজন ছাত্রী সন্দেহ করেন, ছাত্রীদের ওয়াশরুমে এক পুরুষ প্রবেশ করে তড়িঘড়ি বের হয়ে গেছেন। পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে কয়েকজন ছাত্রী ওই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপর তার মুঠোফোন তল্লাশি করে দেখা যায়, তিনি ওয়াশরুমের দরজার ছোট ছিদ্র দিয়ে ভিডিও ধারণ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, রিয়াজের ফোনের গ্যালারিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ছাত্রীদের এমন স্পর্শকাতর ভিডিও পাওয়া যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন। পরে নিরাপত্তা শাখার কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক ফটকে নিয়ে যান। সেখানে আশুলিয়া থানার পুলিশ আসে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পুলিশ প্রথমে অভিযুক্তকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের অনুরোধে তাকে আবার ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর ভোর ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় তাকে নেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ দেন এবং মামলা করতে আশুলিয়া থানায় যান।

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রিয়াজের ফোন পরীক্ষা করে প্রায় ১৪০টি ভিডিও পাওয়া গেছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখানো হয় শুনে আমি এসেছিলাম। পরে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় আমার এক বন্ধু আমার কাছ থেকে ফোন নিয়ে ভিডিও করতে গিয়েছিল। আমি তার পেছনে গিয়েছিলাম। পরে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’ তার ফোনে গত ছয় মাসের ভিডিও কীভাবে এল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর আগেও ক্যাম্পাসে এসেছি। সে সময় কিছু ভিডিও করেছিলাম।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘খুবই ন্যক্কারজনক একটি ঘটনা ঘটেছে। এক যুবক গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ করছিল। বহিরাগত ওই যুবককে আটক করে থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।’

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রুজু করে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...