ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ১০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ১০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আগের ট্রাস্টি বোর্ডের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির খোঁজ পেয়েছে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস। গত ৭ জুলাই দায়িত্ব নেয়া এই প্রশাসক টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে রোববার তাদের প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করেছে।

বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ তানভীর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সাবেক ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের পারস্পরিক বিরোধ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রশাসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যা গত ৫ জুলাই প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন

৭ জুলাই বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস তার কাজ শুরু করে এবং পূর্ববর্তী বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নিয়োগকৃত জনবলের অসহযোগিতা সত্ত্বেও বেশ কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি এবং টাকা পাচার তদন্তে বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেটরস দুর্নীতি দমনে কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিএফআইইউ, সিআইডিকে স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে বলা হয়, দীর্ঘদিন আরজেএসসিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নিবন্ধন নেই। এর আগের বোর্ড তৈরির পেছনে জালিয়াতির বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী সম্পদ তসরুপের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শ্যামলীছ রূপায়ণ শেলফোর্ড ভবনের প্রায় ৯ হাজার স্কয়ারফুটের একটি ফ্লোর, যার বাজার মূল্য ৩০ কোটি টাকা। মিরপুর-২, শাহ আলীবাগ, জনতা হাউজিংয়ে একটি ১০ তলা ভবন যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক হিসেবে বিপুল অর্থের গরমিল ও বেশ কিছু লেনদেন সন্দেহজনক পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া ক্রয়, প্রকল্প বা ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। কর, ভ্যাট বা আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রশাসক টিম আরো জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অনুমোদনের অতিরিক্ত ভর্তি, সার্টিফিকেট বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং দীর্ঘদিন মাত্র একটি কনভোকেশন আয়োজনের অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ, পদোন্নতি, দায়িত্ব বণ্টন বা অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ভাড়াটিয়া গ্রুপ ব্যবহার করে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক সুবিধা প্রদান এবং অন্যদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে আত্মসাৎ বা আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ইউজিসির শর্তের ন্যূনতম জমির চাইতে কম জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস এবং ভবনের অনুমোদন না থাকা।

বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস বিশ্বাস করে, সাধারণ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারবেন এবং নতুন গ্রহণযোগ্য ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে সক্ষম হবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন