প্রাথমিকের শিক্ষকদের জন্য সুখবর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজের চাপ কমাতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। পিইডিপি-৫ অনুমোদন সাপেক্ষে এ প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে রাজশাহী-৫ অধ্যাপক নজরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।
শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশের লক্ষে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা এবং সঙ্গীত চর্চা বাধ্যতামুলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান।
সংরক্ষিত আসনের রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই-আগস্ট মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংঘঠটিত গণহত্যা এবং শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে একাধিক বিষয়বস্তু পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি উপযোগী করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণ, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা হবে। এছাড়া নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্রাজেডি, সাংবাদিক হত্যা ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের মতো বিষয় অন্তর্ভূক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষা বর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় অধ্যয়ন করার সুযোগ পাবে।
মৌলভীবাজার-২ আসনের মো. শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এসইডিপি কর্মসূচির আওতায় আগামী ২০২৬-৩১ অর্থ বছরে দেশের সকল মাদ্রাসায় মিড ডে মিল চালু করা হবে। ওই কর্মসূচিতে ইবতেদায়ী মাদ্রাসাও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
নীলফামারী-৪ আসনের আব্দুল মুনতাকিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা আট হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৮টি, আলিম মাদ্রাসা এক হাজার ২৮৪টি,, ফাজিল মাদ্রাসা ৯৯৩টি ও কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক হাজার ৮৭৩টি। এসব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের কোন পরিকল্পনা আপাতত নেই।
গাজীপুর-৪ আসনের সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ঝরে পড়া রোধ করতে স্কুল ফিডিং, উপবৃত্তি প্রদানসহ সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
নীলফামারী-৩ আসনের ওবায়দুল্লাহ সালাফীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সকল কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের আওতাভুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এক হাজার ৭৮৩টি কিন্ডারগার্টেন নিবন্ধনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


