সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের পচা খাবারে শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় মাদারীপুরের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঘটনায় সিভিল সার্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আগ্রহী করে তোলা এবং তাদেরকে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সরকার স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম চালু করেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়মঃ নিম্নমানের পচা খাবারে অসুস্থ হচ্ছে শিশুরা’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে।
এতে বলা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। মাদারীপুরের খাদ্য সরবরাহকারীদের সাথে চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না এ মর্মে প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ হতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে সিভিল সার্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ বিষয়ে তদন্ত করে ইতিমধ্যে একটি রিপোর্ট প্রদান করেছেন। এছাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খাদ্য সরবরাহকারীর বিরুদ্ধেও দ্রুত কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হবে।
এছাড়াও, মাদারীপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এর আগে গত শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে পাঁচ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়া আরও ২৫ জন শিক্ষার্থী খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তিবোধের কথা জানায়। গত ৮ এপ্রিল মাদারীপুর সদরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণ পরে একাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ১৭ জন শিক্ষার্থীকে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ছয়জনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে দেশের ১৬৫ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং পুষ্টি উন্নয়নে এর লক্ষ্য। এ কর্মসূচি’ ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রকল্প মেয়াদকালে দেশের নির্বাচিত ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ কর্ম দিবসে ফর্টিফাইড বিস্কুট, কলা বা মৌসুমী ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ তথা পুষ্টিকর খাবার প্রদান করা হচ্ছে।
এর মধ্যে রোববারে ১২০ গ্রাম ওজনের বনরুটি এবং সিদ্ধ ডিম, সোমবারে বনরুটি ও ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ,
মঙ্গলবারে ৭৫ গ্রাম ওজনের ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং কলা বা স্থানীয় মৌসুমী ফল, বুধবার এবং বৃহস্পতিবারে বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রস্তাবিত খাদ্য তালিকায় মোট এনার্জির ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২ দশমিক ২ শতাংশ, প্রোটিনের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ফ্যাটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা কথা রয়েছে।
এমপি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

