সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো সুরাহা না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে নিয়োগ বঞ্চিত ৩১ জন প্রার্থী একত্রিত হয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বঞ্চিতদের একজন, রংপুরের পীরগঞ্জের পশালবাড়ীর মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, নিয়োগপত্র পাননি এমন ৩১ জনের তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
উচ্চ আদালতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, এখন আমরা হাইকোর্টে রিট করার দিকে এগোচ্ছি, এ ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। কেননা, গত দুই দিন আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে বসেছিলাম, সেখানে পুলিশ আমাদের হয়রানি করেছে; ফোন কেড়ে নিয়েছিল।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা এ মুহূর্তে রিট করলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
প্রাথমিকের এই নিয়োগ ঘিরে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে প্রথম দফায় নিয়োগপত্র দেওয়ার সময় বিপুলসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নাম তালিকায় না থাকায় আন্দোলন শুরু করেন বঞ্চিতরা। আন্দোলনের মুখে যাচাই-বাছাই শেষে অধিকাংশ প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও এখনো ৮০ জনের বেশি প্রার্থী নিয়োগ বঞ্চিত রয়েছেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা বা অন্যান্য আইনি জটিলতা রয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
অন্যদিকে, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এর ফলে সহকারী শিক্ষকের পদ আরও শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নিয়োগপত্র পাওয়া সত্ত্বেও ৯১৮ জন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগ দেননি বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে নিয়োগপত্র পাওয়া ১৩ হাজার ৭৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন ইতোমধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। নিয়োগপত্র পেয়েও বাকি ৯১৮ জন প্রার্থী যোগ দেননি। এ ছাড়া প্রক্রিয়াগত ও অন্যান্য জটিলতায় ৮০ জনের বেশি প্রার্থীর নিয়োগপত্র এখনো ঝুলে রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


