জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আরও এক নেতা পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সংগঠনটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাহিদ হাসান হিমেল পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে হিমেল বলেন, ব্যক্তিগত কারণে আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে সংগঠনের ন্যায়সংগত আন্দোলন ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ন্যায়সংগত আন্দোলন ও সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি আমার অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে একান্ত ব্যক্তিগত কারণে আমি এই পদে আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে অসমর্থ বলে মনে করছি। তাই আমি আজ থেকে আমার দায়িত্ব পদত্যাগ করছি।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হিমেল জানান, ভবিষ্যতেও সংগঠনের কল্যাণে যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রত্যয় রয়েছে তার।
পরে পদত্যাগের বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, পড়াশোনার চাপ বেড়েছে, ফলে সংগঠনে ঠিকমতো সময় দিতে পারছি না। এ কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এর আগে গত ১৭ জুন মধ্যরাতে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামও ফেসবুকে এক বিবৃতিতে একইভাবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি 'আপ বাংলাদেশ'-এ যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক নেতার পদত্যাগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রায়হান ইসলাম রাব্বি বলেন, তারা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছে। সংগঠনে যদি পাঁচজনও থাকে, আমরা সেই পাঁচজন নিয়েই শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র অধিকার কোয়ান্টিটিতে নয়, কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী। যার ভেতরে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার মানসিকতা ও সামর্থ্য আছে, সেই ছাত্র অধিকার করবে। আমাদের এমন নেতা দরকার নেই যারা শিক্ষার্থীদের আড়ালে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে কাজ করবে। সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় সুস্থ ও দায়িত্বশীল রাজনীতি চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

