ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও শিক্ষার্থী-বান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন শিথিল, হলে প্রবেশের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ফলোআপ বৈঠকে ডাকসুর পক্ষ থেকে নারী হলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিগুলো পুনরায় তুলে ধরা হয়। এ সময় উপাচার্য বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠনের কথা জানান।
বৈঠকে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বর্তমান সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক, গবেষণা, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হলের প্রবেশ-প্রস্থান নীতিমালা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। তাই হল গেট বন্ধের সময় এবং লেট গেটের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অনাবাসিক শিক্ষার্থী ও অন্যান্য নারী হলের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী হলে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড এবং নারী অভিভাবকদের বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের জন্য হলে প্রবেশের সুযোগ চালুরও দাবি জানানো হয়।
ডাকসু আরও জানায়, অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে হলে প্রবেশ কিংবা হল থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ায়। তাই এসব ক্ষেত্রে দ্রুত ও সহজ সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হল প্রশাসন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈঠকে নারী হলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হিসেবে ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ডাকসুর মতে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস রিকগনিশন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে পরিচালিত এ ব্যবস্থা চালু হলে হলে প্রবেশ আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি লেট গেট ব্যবস্থাপনা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রবেশ, এক হলের শিক্ষার্থীর অন্য হলে যাতায়াত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তাও জোরদার হবে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাস থেকেই ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্পন্সরও নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং প্রাথমিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

