ন্যায্য দাম পেয়ে সোনালি আঁশ পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন চাষিরা। এতে বেড়েছে পাট চাষ। পাটের বাম্পার ফলনে সোনালি আঁশের হারানো সুদিন ফিরে আসছে।
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি জানান, সোনালি আঁশ নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পাটচাষিরা। কয়েক বছর আগেও দরপতন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও জাগ দেওয়ার পানির সংকটে পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন অনেক কৃষক। তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে। ভালো বাজারদর, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি ভালো ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় আবারও সোনালি আঁশের এ অর্থকরী ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় দুই হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল দুই হাজার ২০০ হেক্টর। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৬৫০ হেক্টর জমিতে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রোগবালাইয়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় পাটের বৃদ্ধি অত্যন্ত আশানুরূপ। তবে সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় সন্তুষ্ট চাষিরাও।
চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, আগে পাটের দাম কম থাকায় চাষ কমিয়ে দিয়েছিলাম। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে।
আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, এবার পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো। শুধু পাটের আঁশ নয়, পাটকাঠিরও চাহিদা রয়েছে। এতে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। পাশাপাশি পাটের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উন্নতজাতের বীজ, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকের আগ্রহের কারণে এবার পাটের আবাদ বেড়েছে।
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, সোনালি আঁশখ্যাত পাটের ফলন এবার ভালো হয়েছে। দামও পাচ্ছেন ন্যায্য। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয় তিন হাজার ১০৫ হেক্টর কিন্তু অর্জিত হয়েছে তিন হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমি। এ মৌসুমে প্রতি বিঘায় ১০-১১ মণ করে ফলন পাওয়া যাচ্ছে। চাষিরা পাটকাঠি বিক্রি করে প্রায় চার হাজার টাকা পাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, খরচ বাদে পাট চাষে লাভ মিলছে ৪০ ভাগ। পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকা ও অনুকূল আবহাওয়া পাটের বাম্পার ফলনের মূল কারণ।
উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের ময়ুরের চরের চাষি মোখলেছার রহমান বলেন, এবার আট বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। জমির পাট কাটার পর বাম্পার ফলন পেয়েছি। পাট ব্যবসায়ী বিতান রহমান বলেন, বাজারে ভালো মানের পাট চার হাজার টাকা শুরু করে চার হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিকিকিনি চলছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ বলেন, পাটের ফলন ভালো হয়েছে। দামও পাচ্ছেন ন্যায্য। সোনালি আঁশের সুদিন ফিরেছে চাষিদের। এতে লাভবান হবেন পাট চাষিরা।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাটের বাজারগুলোতে মৌসুমের নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার কয়েক দফা বন্যায় পাটগাছের স্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় ফলন অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকদের দাবি, এ বছর অধিকাংশ পাটগাছ স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতা কমেছে। ফলে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত আঁশ উৎপাদন কমেছে। সাধারণত পাটগাছের উচ্চতা সাত থেকে ১৩ ফুট হলেও এবার অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত উচ্চতা অর্জিত হয়নি। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, বীজ বপন ও চারা বৃদ্ধির সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পাটগাছের স্বাভাবিক উচ্চতা ব্যাহত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন বলেন, নতুন পাটের বাজারদর ভালো রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


