পাকিস্তানসহ পুরো বিশ্বের তাবলীগ জামাতের অন্যতম প্রবীণ মুরুব্বী ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এহসানুল হক সাহেব ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুধবার তার ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানসহ দেশ-বিদেশের তাবলীগ জামাতের সাথী, আলেম-উলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ আলমী শুরার মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান তার ইন্তেকালের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাওলানা এহসানুল হক পাকিস্তানের রায়বেন্ডসহ পুরো বিশ্বের তাবলীগ জামাতের আলমী শুরার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রায়বেন্ড মারকাজের প্রবীণ মুরুব্বী হিসেবে দীর্ঘদিন দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মাওলানা এহসানুল হক দীর্ঘ সময় ধরে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের মাধ্যমে মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইলম শিক্ষা, শিক্ষকতা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি তিনি তাবলীগের প্রবীণ মুরুব্বীদের সান্নিধ্যে থেকে দীর্ঘদিন দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দেন।
পারিবারিকভাবেও তিনি তাবলীগ জামাতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের তাবলীগ জামাতের আমির বাবু বশির সাহেবের সন্তান ছিলেন। যিনি বাংলাদেশের তাবলীগের মেহনতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যও অনেক ফিকির ও মেহনত করেছেন। জানা যায়, তার বাবা তাকে দ্বীনের কাজের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।
শিক্ষাজীবনে মাওলানা এহসানুল হক সাহারানপুরের মাজাহিরুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি মাওলানা হারুন সাহেবের সঙ্গে একই সময়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.)-এর কাছে হাদিস অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন তার খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।
ছাত্রজীবনেই তার ইলমি ও রুহানি যোগ্যতায় সন্তুষ্ট হয়ে শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) তাকে খেলাফত প্রদান করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তৎকালীন আলেমদের তাবলীগে সময় দেওয়ার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিনি সাত চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় বের হন।
তাবলীগের নির্ধারিত সময়ের মেহনত শেষ করার পর তিনি ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের কাশিফুল উলুম মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। সেখানে তিনি মাওলানা হারুন সাহেবের সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়।
মাওলানা ইউসুফ সাহেব (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজে চলে আসেন। এরপর ইলম শিক্ষা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি রায়বেন্ড মারকাজের বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে তাবলীগের মেহনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর খান্দানের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ ও সুসম্পর্ক ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে মাওলানা এহসানুল হক ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মুরুব্বী। দীর্ঘ ইলমি জীবন, প্রবীণ আলেম ও মুরুব্বীদের সান্নিধ্য এবং দাওয়াতি মেহনতে তার অবদানের কারণে তাবলীগের অঙ্গনে তিনি একজন পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
তার ইন্তেকালের সংবাদে পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাবলীগ জামাতের সাথী, আলেম-উলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে একজন প্রবীণ মুরুব্বী ও বিশিষ্ট আলেমকে হারালেন তার দ্বীনি সাথী, অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
আল্লাহ তাআলা মরহুম মাওলানা এহসানুল হকের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, তার কবরকে নূরে ভরে দিন এবং তার পরিবার-পরিজন ও দ্বীনি সাথীদের সবরে জামীল দান করুন। আমিন।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


