বাংলাদেশ-ভারত সাদা বলের ক্রিকেট সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত সিরিজটি আয়োজনের সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। তবে বাংলাদেশ বা ভারত কোনো পক্ষ থেকেই এখনো সেপ্টেম্বরে যে এই সিরিজ হচ্ছে না- এমন কোনো মন্তব্য বা পরিষ্কার তথ্য জানা যায়নি। কিন্তু যেহেতু সামনের মাসে সিরিজ, অথচ এখনো কোনো হেলদোল নেই। সূচি নেই। ব্যস্ততা নেই। তাতেই স্পষ্ট যে এই সিরিজ অন্তত এই সেপ্টেম্বরে হচ্ছে না। তবে নির্ধারিত সময়ে না হলেও তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এই সিরিজ যে দু’দেশের ক্রিকেট সূচির হিসাব থেকে একেবারে বাদ হয়ে গেছে তাও কিন্তু নয়। কথাবার্তা চলছে সেপ্টেম্বরের এই সিরিজকে সামনের বছরের জানুয়ারিতে নিয়ে যাওয়া যায় কি না? সেই সমাধানের খোঁজে এখন দু’দেশের বোর্ড কর্তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে জানান, সেপ্টেম্বরে যে এই সিরিজ হচ্ছে না, সেটা আপনি একশভাগ নিশ্চিত থাকতে পারেন। আর এই সিরিজ জানুয়ারিতে করার বিষয়টি নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে। তবে সেটাও এখন চূড়ান্ত কোনোকিছু নয়। মূলত পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে দু’দেশের সরকারের সম্পর্ক ও সম্প্রীতির ওপর।
সূচি অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। এ সময়ের মধ্যেই সেপ্টেম্বরের সিরিজ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। দুই বোর্ড এখন সফরটি আগামী বছরের শুরুতে আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র এএনআইকে জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, বিসিবিও আগামী বছরের শুরুতে সিরিজ আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় খুঁজছে বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের। পরে সেই সফর পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিসিবি জানিয়েছিল, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে ভারত। তবে বিসিসিআই এখনো সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
সেপ্টেম্বরের সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তার পেছনে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও রয়েছে। গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের কয়েকজন সদস্যকে দিল্লিতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় ৮ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারত যদি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র খর্ব করার মতো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশের কাছ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করা যায় না।
সিরিজ নিয়ে দুই বোর্ডের যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও নির্দিষ্ট করে কিছু বলার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তাও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর সিরিজটি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন।
দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনে মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে। এ বছরের শুরুতে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশের এই পেসারকে আইপিএল থেকে বাদ করে দেয়। রেকর্ড পরিমাণ মূল্যে নিলামে তাকে কিনলেও হিন্দুত্ববাদীদের চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত বদলায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। মুস্তাফিজকে তারা আইপিএলে খেলতে দেয়নি। নাইট রাইডার্স খেলা শুরুর আগেই তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেয়। এই জটিলতার প্রেক্ষিতেই ভারতের সহ-আয়োজনে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিসিবি। এই বাদ-প্রতিবাদের পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে ওঠে।
তামিম ইকবাল বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই বোর্ডের যোগাযোগে উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে ভারত সফরে গিয়ে বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্স পরিদর্শন করেন তিনি।
ভারতের সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। সেই সফরে দুই দল দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলেছিল।
জানুয়ারিতে সফরটি আয়োজন করা গেলে প্রায় চার বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে আবার ভারতীয় দলকে দেখা যাবে। সিরিজটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই বোর্ডের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

