‘জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকীর খবর কোথাও ছিল না, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লজ্জা পেয়েছি’

‘জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকীর খবর কোথাও ছিল না, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লজ্জা পেয়েছি’

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী গণমাধ্যমে যথাযথভাবে প্রচার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন এবং পাঠ্যপুস্তকে তার জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

সংসদ সদস্য বলেন, ‘কালকে মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়ক—মরহুম জেনারেল ওসমানীর—১০৮তম জন্মদিবস গেছে। ঘটনাক্রমে সেখানে উপস্থিত হয়ে কিছু লক্ষ্য করলাম। মনে হলো, এই দেশে জেনারেল ওসমানী নামে কোনো লোকের জন্ম হয়নি।’

তিনি বলেন, পরে তিনি বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছেন এবং টেলিভিশন ও পত্রিকায় খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু কোথাও জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী নিয়ে সংবাদ দেখতে পাননি। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নানা ধরনের টকশো হলেও এ বিষয়ে কেউ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লজ্জা পেয়েছি। আমি ভাবলাম, আমরা কি কিছুই করতে পারলাম না?’—বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য বলেন, জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। এ বিষয়ে স্পিকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেনারেল ওসমানীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অন্তত তার অবদানের জন্য এই দেশের মানুষের—যারা সংশ্লিষ্ট—তাকে স্মরণ রাখা উচিত। মুক্তিযুদ্ধে তিনি কী করেছেন, এটা নিয়ে বলতে গেলে ঘণ্টা লাগবে।’

পাঠ্যপুস্তকে জেনারেল ওসমানীর জীবন ও অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, নিজের সংগ্রহ করা শিশুদের বই ও স্কুলের বিভিন্ন বইয়ে খুঁজেও জেনারেল ওসমানীর বিষয়ে তেমন কোনো আলোচনা পাননি।

জেনারেল ওসমানীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নির্মোহ, নিরহংকার, সৎ ও সাহসী কোনো লোক যদি বাংলাদেশে জন্ম হয়ে থাকে, জেনারেল ওসমানী তাদের একজন।’

বক্তব্যের শেষ দিকে জেনারেল ওসমানীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, তাঁর জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের বিষয়ে সংসদ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে জাতীয় কর্মসূচির আওতায় তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন এবং পাঠ্যপুস্তকে তার জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন