আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শাবিপ্রবিতে ছাত্রী হল সংলগ্ন টিলায় আগুন, ৬ নিরাপত্তাকর্মী আহত

প্রতিনিধি, শাবিপ্রবি

শাবিপ্রবিতে ছাত্রী হল সংলগ্ন টিলায় আগুন, ৬ নিরাপত্তাকর্মী আহত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাতেমা তুজ জাহরা হলের পাশের টিলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে ৬ জন নিরাপত্তাকর্মী ও হলের ইলেক্ট্রিশিয়ান আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা শাখার সুপারভাইজার আজিজুর রহমান জানান, তাঁদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আড়াইটার দিকে ছাত্রী হল সংলগ্ন টিলায় আগুন লাগে। এতে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেন হলের নিরাপত্তাকর্মী, মালি ও ইলেক্ট্রিশিয়ানরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস-এর কর্মীরা।

সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হল সংলগ্ন টিলার প্রায় ২০০ শতক এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের ধোঁয়া হলে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে বের হয়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নেন। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের বিলম্বিত উপস্থিতি এবং ফায়ার সার্ভিসের দেরি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে টিম লিডার প্রীতম দাস জানান, টিলার পাশে আকাশমনি গাছের শুকনো পাতা জমে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বিড়ি বা সিগারেট খেয়ে তার অংশ সেখানে ফেলায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তিনি জানান, আগুন নিভে গেছে, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পানি ছিটানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আগুন নেভাতে গিয়ে আহত ৬ জনের মধ্যে গুরুতর আহতরা হলেন হলের ইলেক্ট্রিশিয়ান আজিজুল হক এবং গার্ডেনার রাকিব হোসাইন। আজিজুল হকের শ্বাসনালিতে ধোঁয়া প্রবেশ করায় তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন। রাকিব হোসাইনও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। অপর চারজন হলেন নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জন দাস, লিমন দাস, সুমন আহমদ এবং ইলেক্ট্রিশিয়ান সেলিম মিয়া। তাঁদের মধ্যে কারও পা ছিটে গেছে, কারও হাত কেটে গেছে।

নিরাপত্তাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, হলে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল। ফলে সেগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কষ্ট হয়।

নিরাপত্তা শাখার সুপারভাইজার আজিজুর রহমান বলেন, “নিরাপত্তাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। এতে অনেকে আহত হয়েছেন। আমরা দাবি জানাই তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। পাশাপাশি তাদের উৎসাহ দিতে সম্মানী বা পুরস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নেভানো নিরাপত্তাকর্মীদের পুরস্কৃত করা। তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও একটি জরুরি হটলাইন চালু করা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিও প্রশাসনের সহমত রয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদোত্তীর্ণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হল কর্তৃপক্ষ থেকে অবহিত না করলে আমার পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। হল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আমাকে অবহিত করেনি। তাই এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...