নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

এশিয়ায় চীনের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা, ট্রাম্পের দৃষ্টি ইরানে

এশিয়ায় চীনের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা, ট্রাম্পের দৃষ্টি ইরানে
ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত ঘিরে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্কিত সেকেন্ড থমাস শোল এলাকায় ফিলিপাইনের পুরোনো যুদ্ধজাহাজ সিয়েরা মাদ্রে ঘিরে চীনা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে এক ফিলিপিনো সেনা আহত হন। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায় ফিলিপাইনের দাবির পক্ষে থাকলেও চীন তা মানেনি।

ফিলিপাইনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানালেও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তি ও সম্পদের বড় অংশ ব্যস্ত থাকায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীনকে মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে চীন পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল করছে এমন অভিযোগ উঠেছে। জাপান ও ইন্দোনেশিয়ায় কয়েকটি মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এশীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে জটিল করেছে। বিপরীতে, চীন এসব দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। ফলে এশিয়ার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইলেও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছে না।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা এবং সম্ভাব্য ‘জি-টু’ সম্পর্কও এশিয়ার মিত্রদের উদ্বিগ্ন করছে। অন্যদিকে ফিলিপাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে এবং জাপানও ফিলিপাইনের সঙ্গে সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক মনোযোগের বড় অংশ দখল করে রেখেছে, তখন চীন এশিয়ায় নিজের প্রভাব ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে। ফলে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা ও নেতৃত্ব নিয়ে মিত্র দেশগুলোর অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন