রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধ সারা বছরই উন্মুক্ত থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় জাতীয় তিন নেতার মাজারও উন্মুক্ত থাকে। ব্যতিক্রম শুধু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ।
ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে কবি কাজী নজরুল ও শহীদ শরীফ ওসমান হাদির সমাধি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে। কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমাধিস্থল বন্ধ রাখায় দর্শনার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর শহীদ ওসমান হাদিকে সমাহিত করার পর থেকেই অলিখিতভাবে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকে দর্শনার্থীরা জাতীয় কবির সমাধিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। বাইরে থেকে দেখেই ফিরে যেতে হয় তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সমাধিস্থলের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। প্রবেশপথের দুপাশে ফুটপাতে বসেছে বইয়ের দোকানসহ চুড়ি-গয়নার দোকান। কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা নামফলক না থাকায় অনেকেই বুঝতে পারেন না যে, সেখানে জাতীয় কবির সমাধি অবস্থিত।
ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন তুষার বলেন, ‘কবি নজরুলের মাজার আগে সব সময় উন্মুক্ত ছিল। যে কেউ গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারত। কিন্তু শহীদ হাদিকে এখানে সমাধিস্থ করার পর থেকেই এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন কেউ চাইলেও প্রবেশ করতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘নজরুল তার কবিতায় মানুষের কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মাজার তালাবদ্ধ থাকায় সেই আকাঙ্ক্ষা যেন অপূর্ণই থেকে যাচ্ছে।’
সন্তানদের নিয়ে সমাধি দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান আজিমপুরের বাসিন্দা ফরিদা আক্তার । যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমরা নজরুল ও হাদির সমাধি দেখতে এসেছিলাম। গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারিনি। বাইরে থেকে দেখে চলে যেতে হচ্ছে। কেন বন্ধ রাখা হয়েছে, তাও জানি না।’
রুবেল নামে এক পথচারী বলেন, ‘আমি জানতাম এখানে নজরুলের কবর আছে, কিন্তু কখনো ঠিকভাবে দেখার সুযোগ হয়নি। কোনো নামফলক না থাকায় অনেকেই বুঝতে পারে না এখানে জাতীয় কবির কবর রয়েছে।’
মোহাম্মদ দিপু নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘কবর জিয়ারত করতে এসে ভেতরে ঢুকতে না পারায় এক ধরনের শূন্যতা লাগে। আমরা কাছে গিয়ে দোয়া করতে পারি না। এই দূরত্ব আমাদের সেই অনুভূতি থেকে বঞ্চিত করছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, সমাধিস্থল সীমিত রাখার পেছনে কোনো লিখিত নীতিমালা নেই। তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদিকে দাফনের পর এখানে মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, ‘এটি স্থায়ী কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তবে আপাতত উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নেই। কেউ চাইলে প্রক্টর অফিসের অনুমতি নিয়ে সমাধি পরিদর্শন করতে পারবেন।’
সাধারণ দর্শনার্থীদের মতে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সমাধি এভাবে সীমাবদ্ধ করে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, দ্রুত সমাধিস্থল আগের মতো উন্মুক্ত করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে এসে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
আজ ২৪ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী ঘিরে দর্শনার্থীদের প্রশ্ন—নিরাপত্তার নামে আর কতদিন বন্ধ থাকবে বিদ্রোহী কবির চিরনিদ্রার স্থান?
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ