আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৭১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সেমিস্টার অনুযায়ী বহিষ্কার করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের বহিষ্কার করা হয়।
এছাড়া সভায় বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা বোর্ড ২৩ জনকে এক সেমিস্টার, ৩৩ জন দুই সেমিস্টার ও ১৫ জন সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের চার মাস পার হলেও জড়িতদের বিচারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। মামলা হয়নি আবাসিক হল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়ও। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, গত বছরের ২৮ অক্টোবর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় শেষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুই শিক্ষক ও সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর বাইরেও আরও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
বহিষ্কৃতরা হলেন- গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিয়ার রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের আসাদ মণ্ডল, হাফিজুর রহমান তুফান, আমির হোসেন আমু, আসিকুন্নাহার টুকটুকি চৌধুরি, জনি, রাফিউল হাসান রাসেল ও নূর নবী।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৫ জনের তালিকায় রয়েছেন- পমেল বড়ুয়া, শামীম মাহাফুজ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, গ্লোরিয়াস (ফজলে রাব্বি), বাবুল, বিধান, তানভীর, আদুল্লাহ আল নোমান খান, রিফাত, ফারহাদ হোসেন এলিট, মোমিনুল, আরিফুজ্জামান ইমন, গাজীউর, শাহিদ হাসান ও মামুন। দ্বিতীয় সেমিস্টারে বহিষ্কার হয়েছেন ৩৩ জন। প্রথম সেমিস্টারে থাকা ২৩ জন বহিষ্কার হয়েছেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, এক বা দুই সেমিস্টার বহিষ্কৃতদের অনেকেই আবু সাঈদ হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শুধুমাত্র সিদ্ধান্তেই ঝুলে রয়েছে তাদের শাস্তি।
আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, আমরা চাচ্ছিলাম যারা আহত তারাই সাক্ষী হবেন। তবে এখন আমরা নিজেরাই সাক্ষী দেবো।
আরেক সহযোদ্ধা এসএম আশিকুর রহমান বলেন, অপরাধীদের নামে মামলা করার জন্য সাক্ষীর তালিকা তৈরি করছি আমরা। দ্রুতই সেই তালিকা প্রশাসনে জমা দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, দুজন শিক্ষক ও সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনবার এ নোটিশ দেওয়া হবে। এরপরও কোনো উত্তর না পেলে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, খুব দ্রুতই অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। জড়িতরা কেউ ছাড়া পাবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

