আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আগামীকাল শুরু হচ্ছে এশিয়ার উল্লেখযোগ্য আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবি মেলা’

‘ছবি মেলা শুধুমাত্র আলোকচিত্র উৎসব নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক লড়াই’ বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা

বিনোদন রিপোর্টার

আগামীকাল শুরু হচ্ছে এশিয়ার উল্লেখযোগ্য আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবি মেলা’

এশিয়ার উল্লেখযোগ্য আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবি মেলা’র ১১তম সংস্করণ শুরু হতে যাচ্ছে আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি। আজ দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় যাতে উৎসবের নানান কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন উৎসবের কিউরেটর, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্পীসহ ছবি মেলা দলের সদস্যরা। দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশালা, সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে ২০০০ সাল থেকে চলমান এ উৎসবটি বিশ্বের অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত।

আজকের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা শহিদুল আলম, উৎসব পরিচালক এএসএম রেজাউর রহমান, কিউরেটর মুনেম ওয়াসিফ ও সরকার প্রতীক, আলোকচিত্রী ও গবেষক জান্নাতুল মাওয়া। আন্তর্জাতিক শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ভারতীয় আলোকচিত্রী ও আমন্ত্রিত কিউরেটর তানভি মিশ্রা, ও সুদানের আলোকচিত্রী মুহাম্মদ সালাহ আব্দুল আজিজ।

বিজ্ঞাপন

এএসএম রেজাউর রহমান জানান, এবারে ছবি মেলার ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও সারা পৃথিবী থেকেই শিল্পী, শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে দেশের আলোকচিত্রী ও আলোকচিত্রী প্রেমীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের নতুন কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে।

ছবি মেলা একটি লড়াইয়ের অংশ উল্লেখ করে শহিদুল আলম বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে আমাদের একটি ভিন্ন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল। সেটা শুধু রাজনৈতিক অর্থে নয়, একইসাথে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়েও আসতে হবে। স্পন্সর যেই হোক না কেন, আমরা আমাদের কাজ করবো, কাজ দেখাবো ও প্রশ্ন করবো। দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবেও যে পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদ, আগ্রাসন, দখল ও ক্ষমতার আধিপত্য - এসকল কিছুকে প্রশ্ন করা হয়েছে এ উৎসবে। এই লড়াই চলমান।‘

মুনেম ওয়াসিফ বলেন, “এবারের আয়োজনে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রাম, ইতিহাসের ঔপনিবেশিক শাসন, আফ্রিকার বর্ণবাদ থেকে শুরু বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক লড়াই-সংগ্রামের গভীরতা ও বর্তমান বাস্তবতা বিশ্বব্যাপী শিল্পীদের কাজের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে।”

ছবি মেলায় বরাবরই বাংলাদেশের প্রথিতযশা আলোকচিত্রীদের স্মরণ করা হয় উল্লেখ করে কিউরেটর সরকার প্রতীক জানান, এবার জাতীয় জাদুঘরে আলোকচিত্রী আমানুল হকের জীবনগাঁথা তুলে ধরা হয়েছে। জান্নাতুল মাওয়া এবারের আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নারীদের সংগ্রামের উপর কাজ নিয়ে আলোচনা করেন।

উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসেবে আগামীকাল দুপুর ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে পৌঁছে শেষ হবে। পরবর্তীতে জাতীয় চিত্রশালা অডিটরিয়ামে বিকেল ৪টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন সম্মানিত অতিথি মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী, উপদেষ্টা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিশেষ অতিথি রেজাউদ্দিন স্টালিন, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং আয়োজক দলের সদস্যরা।

এবারের উৎসবটি ১৬ দিনব্যাপী চলবে ঢাকার পাঁচটি স্থানে— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, দৃকপাঠ ভবন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (সাউথ প্লাজা) — যেখানে সবমিলিয়ে নয়টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সংস্করণে ‘পুনঃ’ ভাবধারার আলোকে পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে ৫৮জন অংশগ্রহণকারী একত্রিত হচ্ছেন। উপসর্গ ‘পুনঃ’ অর্থ আবার, নতুন করে কিংবা অন্যভাবে শুরু করা। অথবা পুনরাবৃত্তি, উল্টো দিক থেকে পুনরায় উন্মোচন।

একক ও দলীয় প্রদর্শনীগুলোর পাশাপাশি, এ আয়োজনে থাকছে আর্টিস্ট টক, প্যানেল আলোচনা, ও লেকচার, যা আগত দর্শনার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রী, কিউরেটর এবং চিন্তাবিদদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে। উৎসবের শিক্ষামূলক মাত্রাকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ছয়টি ইন্টেনসিভ কর্মশালা ও জানুয়ারি ২৫ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে স্থানীয় স্কুলগুলোকে নিয়ে একটি শিক্ষামূলক প্রচার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে, যাতে একহাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।

সবার জন্য উন্মুক্ত এই উৎসবটি চলবে আগামী জানুয়ারি ৩১, পর্যন্ত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন