আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ফারিদা পারভীন

সরকারের কাছে বিদেশে চিকিৎসা সহায়তা চায় পরিবার

আফসান খানম আশা
সরকারের কাছে বিদেশে চিকিৎসা সহায়তা চায় পরিবার

সেই ২০১৯ সাল থেকেই কিডনি সমস্যায় ভুগছেন লালনসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন। নিয়মিত ডায়ালাইসিস সেবা নিয়ে থাকেন এই শিল্পী। গত মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শিল্পীকে বিদেশ নিয়ে যেতে চান তার বড় ছেলে ইমাম নিমেরি উপল।

বিজ্ঞাপন

তার চাওয়া, ফরিদা পারভীনকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়ে সরকার যেন উদ্যোগী হয়। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে শিল্পীর পরিবার।

আমার দেশকে উপল বলেন, ‘মায়ের শারীরিক অবস্থা বেশ ক্রিটিক্যাল, এই মুহূর্তে উনার ভাল ট্রিটমেন্ট দরকার। কিন্তু আমি জানি না সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে যেন ছড়িয়ে গেছে মায়ের চিকিৎসার জন্য আমাদের কোন অর্থের প্রয়োজন নেই। ফরিদা পারভীনের আর্থিক ক্রাইসিস না থাকলে তো তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে বার বার নেওয়া হত না, আমরাই তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতাম। বারবার ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় কেন এই কারণ তো জানতে চায় না কেউ। সরকার থেকে উনাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করানো হোক এটা আমার চাওয়া।’

পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর আগে মা যখন অসুস্থ ছিলেন তখন মির্জা ফকরুল আংকেল, সংস্কৃতি সচিব, উনারা এসেছিলেন মাকে দেখতে। কিন্তু মিডিয়াগুলোতে এমনভাবে নিউজ ছড়িয়ে গেল যে মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে, কিন্তু বাস্তবে তো তা না। বাসায় আমরা নিয়ে গেছি কিন্তু উনিতো পুরোপুরি সুস্থ না, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলেতো কেও ২ সপ্তাহের ব্যবধানে আবার অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে থাকে না। এখন আমাদের পক্ষ থেকে গাজী আংকেল সরকারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন যাতে উনাকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার মা বাংলাদেশের একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। সরকারি ভাবে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা উনি পেতে পারে, এতে লজ্জার কিছু নেই। রাষ্ট্রীয় ভাবে উনার চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হলে বরং সেটা সম্মানের।’

সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপল বলেন, ‘আমরা বারবারই বলছি সরকার যদি চিকিৎসায় সহযোগিতা করতেন, দেখতেন কোন জায়গায় পাঠালে মায়ের ভালো চিকিৎসা হবে। তাহলে মা এই যাত্রায় বেঁচে যেতেন।’

ফরিদা পারভীন এর ব্যাপারে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছেন ফরিদা পারভীন। কিডনি বিকল রোগীদের যে কোনও সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। ফরিদা পারভীনের বেলায়ও তাই হয়েছে। এবার ডায়ালাইসিস-এর পরে তার বমি শুরু হয় যে কারণে তার শরীরের সোডিয়ামের লেভেল কমে গেছে, পাশাপাশি ইন্টারনাল রক্তক্ষরণের বিষয়ও রয়েছে। কিডনি জটিলতার পাশাপাশি তাঁর শ্বাসকষ্টসহ আরও নানা সমস্যা আছে। উনি বেশ ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন