দীর্ঘ সাত বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে আবারও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনটি আগামী ১১ জুলাই এফডিসিতেই আয়োজিত হবে।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ২১ মে প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সদস্যদের জন্য চাঁদা পরিশোধ ও সদস্যপদ নবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে ১১ মে পর্যন্ত। এবারের নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো বহু আলোচিত ‘আম-মোক্তারনামা’ প্রথা বাতিল করা হয়েছে। ফলে এবার প্রার্থী ও ভোটাররা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
সমিতির নিয়ম অনুযায়ী কোনো সিনেমা সেন্সর বোর্ডে পাসের চার বছর পর একজন প্রযোজক ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। আগে একজন প্রযোজক একাধিক সিনেমা নির্মাণ করলে একাধিক ‘আম-মোক্তারনামা’ দিয়ে অতিরিক্ত ভোটাধিকার পেতেন। তবে এবারের নির্বাচনে সে সুযোগ থাকছে না। একজন প্রযোজক যত সিনেমাই নির্মাণ করুন না কেন, তিনি একজন ভোটার হিসেবেই গণ্য হবেন।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা ১৫০ থেকে ১৬০ জনের মধ্যে হতে পারে। সভাপতি পদে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন খোরশেদ আলম খসরু ও আশরাফ উদ্দিন আহমেদ (নায়ক উজ্জ্বল)। নির্বাচন প্রসঙ্গে খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘দীর্ঘ সাত বছর পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা সত্যিই আনন্দের ও ইতিবাচক খবর।
এতদিন পর সদস্যরা আবারও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। আমিও এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। এখনো প্যানেল গঠন নিয়ে চূড়ান্ত কোনো আলোচনা হয়নি। সামনে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্যানেল গঠন হতে পারে। তবে এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবেও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাই সবাই স্বাধীনভাবে অংশ নিতে পারবেন। আমি আশা করি, এ নির্বাচন সমিতিতে নতুন নেতৃত্ব আনবে এবং চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
অন্যদিকে প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচন ঘিরে তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর সমিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এটি চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য সুখবর। আমি এজিএস পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে কোনো প্যানেলের সঙ্গে নয়, স্বতন্ত্রভাবেই অংশ নেওয়ার চিন্তা করছি। সদস্যদের সমর্থন ও ভালোবাসা পেলে সমিতির উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’
এর আগে সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর নানা আইনি জটিলতা ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের কারণে নির্বাচন স্থগিত ছিল। দীর্ঘ সময় প্রশাসকনির্ভর পরিচালনার পর এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতিতে নেতৃত্ব ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

