মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হলো আসিফ ইসলাম পরিচালিত সিনেমা ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। ছবির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন নানা দেশ থেকে আসা অতিথিরা। সিনেমা দেখার পর তাদের প্রতিক্রিয়ায় অভিভূত নির্মাতারা। বাংলার যাত্রাপালা নিয়ে সিনেমাটি প্রশংসিত হয়েছে মস্কোর এই উৎসবে।
গত ১৩ এপ্রিল মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশ ছাড়েন ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ সিনেমার তিন কুশলী, প্রযোজক জান্নাতুল বাকের খান, পরিচালক আসিফ ইসলাম ও অভিনেত্রী আশনা হাবিব। উৎসবের অক্টোবর সেন্টারের সাত নম্বর মিলনায়তনে ছিল ছবির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। উৎসবের আর্টকোর বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে আসিফ ইসলামদের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ছবিটি নির্মাণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ বলেন, ‘ছবিটি উৎসবে দেখাতে পেরে স্বস্তি বোধ করছি।’
ছবি দেখে কী বললেন দর্শকরা? আসিফ ইসলাম বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পর অডিয়েন্সের রিয়্যাকশন বেশ ভালো লেগেছে। রুশসহ বেশ কয়েকটি দেশের অডিয়েন্স ছিলেন, বাংলাদেশেরও ছিলেন বেশ কিছু মানুষ। সবাই খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন। বিশেষ করে যাত্রা নিয়ে কাহিনি বলে আরো বেশি অ্যাপ্রিশিয়েটেড হয়েছে। বেশিরভাগ অডিয়েন্সের কমন কথা, ‘খুব চমৎকার ফিল্ম, বিউটিফুল শট, কিন্তু ভেরি পেইনফুল অ্যাট দ্য অ্যান্ড।’ এটাই প্রথম নয়।
মস্কোর এই উৎসবের ৪৬তম আসরে ‘নির্বাণ’ ছবিটি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন আসিফ ইসলাম। সংলাপহীন সাদা-কালো ওই ছবি সেবার স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড (এমআইএফ) পায়। এ বছর আসিফ ইসলাম ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে সিনেমা নিয়ে উৎসবে যোগ দিয়েছেন যুবরাজ শামীম। তার সিনেমার নাম ‘অতল’। উৎসবের ৪৪তম আসরে স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড ও নেটপ্যাক জুরি অ্যাওয়ার্ড পায় শামীমের ছবি ‘আদিম’। এ বছর নেটপ্যাক জুরি অ্যাওয়ার্ডের জন্য লড়ছে ‘অতল’ ও ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’।
‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রবীণ যাত্রাশিল্পী অরবিন্দ মজুমদার, যাত্রাপালার একঝাঁক শিল্পী ও ভাবনা। আসিফ ইসলাম জানান, গতকাল রাত ৯টায় ছবির দ্বিতীয় প্রদর্শনী হয় অক্টোবর সেন্টারের ১১ নম্বর মিলনায়তনে। উৎসবপর্ব শেষে শিগগির বাংলাদেশের দর্শকদেরও ছবিটি দেখাতে চান তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

