কোহিনূর আক্তার সূচন্দা পরিচালিত এবং জহির রায়হানের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘হাজার বছর ধরে’ মুক্তির বিশ বছর পূর্ণ হলো। এ টি এম শামসুজ্জামান, রিয়াজ ও শশী অভিনীত এই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় গান—গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় এবং আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর-সংগীতে সুবীর নন্দী ও অনুপমা মুক্তির কণ্ঠে গাওয়া ‘তুমি সুতোয় বেঁধেছ শাপলার ফুল, না কি তোমার মন’।
মিষ্টি ও সুরেলা কণ্ঠের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এই একটি গানই অনুপমা মুক্তির সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় ও সাফল্য হয়ে আছে। বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার, একক অ্যালবাম ও মিক্সড অ্যালবামে অনেক গান গাইলেও সিনেমার প্লে-ব্যাকে পরবর্তীতে আর তেমন সুযোগ না পাওয়ার আফসোস থেকে গেছে তার।
গানটি প্রসঙ্গে অনুভূতি প্রকাশ করে অনুপমা মুক্তি বলেন, ‘প্রয়াত শ্রদ্ধেয় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন বলেই আমার সংগীতজীবনে ‘তুমি সুতোয় বেঁধেছো’ যুক্ত হয়েছিল, তাও আবার শ্রদ্ধেয় সুবীর নন্দী দার সঙ্গে। এই গানের বয়স ২০ বছর পার হলেও এখনো যেকোনো স্টেজ শোতে গেলে এর অনুরোধ আসে। গানটি আমার সংগীতজীবনের আশীর্বাদ। তবে আফসোস, এরপর চলচ্চিত্রে এমন কোনো গান গাওয়ার সুযোগ আমার ভাগ্যে জুটল না। আমি এখনো মনে-প্রাণে ফিল্মে গান গাইতে চাই এবং বিশ্বাস করি সেই প্রতীক্ষার অবসান শিগগিরই ঘটবে।’
অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বড় ভাই নাজমুল হাসান অপুর কাছে গানে হাতেখড়ি হয় তার। এরপর ওস্তাদ ইয়াকুব আলী খান, সুজিত মোস্তফা, মঙ্গল চন্দ্র মণ্ডলের কাছে তালিম নেন এবং বাফা (BAFA) থেকে সার্টিফিকেট কোর্স সম্পন্ন করেন।
২০০০ সালে সুরকার ও সংগীত পরিচালক শরীফ রাজকুমারকে বিয়ে করেন তিনি। স্বামীর কথা ও সুরেই তার প্রথম মৌলিক গান প্রকাশিত হয়। এছাড়া তার প্রথম একক অ্যালবাম ছিল ‘ঝিনুকের মুক্তো’। শিল্পীর আসল নাম ‘মনিরা মুক্তি’ হলেও স্বামী ভালোবেসে তার নাম রাখেন ‘অনুপমা’।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

