জাতীয় সংসদের সংসদীয় কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী-হুইপসহ রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগীদের রাখা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কমিটির সভাপতি হবেন বেসরকারি সদস্য এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে যারা আছেন তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে চিফ হুইপকে অনুরোধ করেন স্পিকার।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন ও দুটি পুনর্গঠন করেন। এরপর তাকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাধারী জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় চারজন হুইপকে চারটি সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তারা হলেন হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাপতি, হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে হুইপ জি কে গউছ। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। রীতি অনুযায়ী সংসদ সদস্য হলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিজ মন্ত্রণালয়ে সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়, এর বাইরে কোন কমিটিতে তাদের রাখা হয় না।
চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় চিফ হুইপ একটি বিষয় আমি লক্ষ্য করেছি যে, এই কমিটিগুলো যখন গঠন করা হয়, স্পিরিট হলো কমিটির চেয়ারম্যান বেসরকারি সদস্য হবেন এবং মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদে যারা আছেন তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন। কিন্তু আমি লক্ষ্য করেছি যে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সদস্যপদে প্রতিমন্ত্রী, হুইপ—এ ধরনের উচ্চপদস্থ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু স্পিরিট হলো এবং সংসদের প্রথা হলো বেসরকারি সদস্যরাই সদস্যপদে থাকবেন এবং মন্ত্রীও একজন সদস্য থাকবেন। এই বিষয়টি ভবিষ্যতে কমিটি গঠনকালে বিবেচনা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।
পাঁচ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
আরও পাঁচ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কমিটির নাম প্রস্তাব করেন। পরে কণ্ঠভোটে পাশ হয়। নতুন গঠিত পাঁচ কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দল থেকে কারও রাখা হয়নি।
জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১ টি বিষয় ভিত্তিক। এর মধ্যে ৪৫ টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৬টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। বাকী ৯টি বিষয় ভিত্তিক।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান। তিনি বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটিরও সভাপতি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এ কে এম ফজলুল হক মিলন। রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগার লবি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এসএম রফিকুল ইসলামকে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি থেকে একেএম ফজলুল হক মিলন ও মুন্সী রফিকুল আলমের বদলে মাজহারুল ইসলাম ও ফরিদুল কবীর তালুকদারকে নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে জামায়াতের সদস্য মাছুম মোস্তফার বদলে দলটির আরেক সদস্য কামরুল হাসানকে নেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


