বাংলাদেশের সিনেমার অন্যতম তরুণ সফল জুটি নাঈম-শাবনাজ। তাদের অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘চাঁদনী’ মুক্তি পায় ১৯৯১ সালের ২ অক্টোবর। টিনেজ প্রেমের এ সিনেমার মাধ্যমে বিখ্যাত নির্মাতা এহতেশামুর রহমান উপহার দেন নতুন দুই মুখ নাঈম ও শাবনাজ। তাদের মাধ্যমে শুরু হয় ঢালিউডে একঝাঁক নতুন তারকার আগমন। এ দুই তারকা অভিষেকের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ২০১৬ সালে নাঈম-শাবনাজই উদ্যোগ নিয়েছেন ‘চাঁদনী স্মরণসন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
দেখতে দেখতে ‘চাঁদনী’ সিনেমা মুক্তির ৩৬ বছরে অর্থাৎ তিন যুগে পদার্পণ করছে। আগামী ২ অক্টোবর ‘চাঁদনী’ সিনেমাটি মুক্তির ৩৬ বছরে পা রাখবে। নাঈম জানান, তিন যুগ পদার্পণ নিয়ে তাদের তেমন কোনো ভাবনা নেই।
নাঈম বলেন, ‘চাঁদনী’র নির্মাতা গুরু এহতেশাম সাহেব আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু আমরা দুজনই তাকে প্রতিনিয়ত অনুভব করি। সত্যি বলতে কী, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার যে অবদান তা এড়িয়ে যাওয়ার বা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ‘চাঁদনী’ মুক্তির প্রায় ৩৬ বছরে আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আর আলহামদুলিল্লাহ আমরা বেশ ভালো আছি। আল্লাহর দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া যে তিনি আমাদের সুস্থ রেখেছেন, ভালো রেখেছেন। আমাদের দুই মেয়ে নামিরা ও মাহাদিয়াকে আল্লাহ ভালো রেখেছেন। সবার কাছে আমরা দোয়াপ্রার্থী, আল্লাহ যেন বাকি জীবন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করেন।’
শাবনাজ বলেন, ‘আমরা এখন আর কাজ না করলেও চলচ্চিত্রকে আমাদের পরিবারের মতোই মনে করি। এখানে একজনের সাফল্যে যেমন আনন্দিত হই, তেমনই এখানে কারো কষ্ট দেখলে নিজের ভেতরও কষ্ট অনুভব করি সমান অনুভূতি নিয়ে। কারণ, আমি আর নাঈম এখানেই একে অপরের সান্নিধ্যে এসেছি। দেখতে দেখতে চাঁদনী মুক্তির ৩৬ বছর হয়ে যাচ্ছে। সময় এতো দ্রুত চলে যায়, অনুভবই করা যায় না। আল্লাহর অশেষ রহমত যে নাঈমের মতো পরিপূর্ণ একজন মানুষকে আমি জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। আমার সুখে-দুঃখে যেমন নাঈম সব সময় পাশে থেকেছে, আমিও তার সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। আমরা সুন্দর একটি জীবন গড়েছি, সুখী একটি পরিবার গড়েছি।’
এদিকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নাঈম-শাবনাজ অভিনীত ‘চাঁদনী’, ‘সোনিয়া’, ‘দিল’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘চোখে চোখে’, ‘অনুতপ্ত’, ‘লাভ’ সিনেমাগুলো দর্শকের কাছে বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায়। এই সিনেমাগুলো ছিল তখন দর্শকের কাছে প্রিয় সিনেমা আর জুটি হিসেবে নাঈম-শাবনাজও ছিলেন দর্শকের কাছে প্রিয় জুটি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

