স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রত্যাশার জায়গা থেকে ধরে রাখতে না পারলে বিপদ আসতে বেশি সময় লাগবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রত্যাশা করতে গেলে আবারও বিপদ চলে আসতে পারে এবং অন্য কেউ সেই সুযোগ নিয়ে নিতে পারে। তাই শুধু রাজনীতিবিদ নয়, রাজনৈতিক কর্মী এবং যে যে রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেন—সবাইকে বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি চিন্তা করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ফেনী আমার ফেনী’ আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনা এবং রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা—একইভাবে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও কাজের মধ্যেও সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। একে অপরের মধ্যে সেই সমন্বয় না ঘটলে বিপদ আসতে বেশি সময় লাগে না। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দেশের চারপাশের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এখন যেহেতু সেখানে সেই সরকারের পাশে থেকে আরেকজন কথা বলছেন বা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন, তারা হয়তো বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চান; কিন্তু সেখানে আন্তরিকতার কতটুকু অভাব রয়েছে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক ভালো হওয়া উচিত ছিল। ১৭ বছর একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হয়েছে, দেশের মানুষের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক হয়েছে। কিন্তু তারা চেয়েছেন দেশের মানুষের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠুক। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতির সঙ্গে তারা জড়িত এবং সেই রাজনীতিই তাদের পথচলার ভিত্তি।
মানুষের প্রত্যাশা পূরণে রাজনীতিবিদদের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে এ্যানি বলেন, মাঠের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষকে একটু সম্মান করলে কেউ ছোট হয় না, বরং বড় হয়। নির্বাচনের পর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে এবং ৫ তারিখের পর রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের ধারণাও পরিবর্তিত হয়েছে। সেই ধারণা ধরে রাখার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের। একজন রাজনীতিবিদ ও একটি রাজনৈতিক দলের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বলে-কয়ে শেষ করা যাবে না।
তিনি বলেন, এখন সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে যেতে হয়। কিন্তু তার আগেই মানুষ মনে করেন, তাকে যেতে হবে। ফলে সকাল ৯টায় মানুষের কাছ থেকে বিদায় নেওয়াটাও কঠিন হয়ে যায়। আবার বিকেলে বাসায় ফেরার পর সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত এলাকার মানুষ ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা আসেন। তাদের সময় দিতে হয়। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও অনেক সময় দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হয়। প্রত্যেকের প্রত্যাশা আলাদা, তদবির আলাদা, বক্তব্য ও চাহিদাও আলাদা।
এ্যানি বলেন, সরকারে আসার ছয় মাসের মধ্যে সবার জন্য অনেক কিছু করে ফেলা হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। কারণ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সবাইকে একটি কথা বলে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন—১৭ বছর ধরে মামলা, হামলা, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম ও খুনের যে পরিস্থিতি ছিল, অন্তত সেখান থেকে তারা রেহাই পেয়েছেন।
মোশারফ হোসেন ছিলেন মানুষের পাশে থাকার মানুষ মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনের স্মৃতিচারণ করে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিনি যখন রাজনীতিতে আসেন, তখন থেকেই তার কর্মকাণ্ড দেখা গেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তার গভীর দুর্বলতা ছিল। ফেনীর সন্তান হিসেবে এলাকার মানুষকে কিছু দেওয়া এবং তাদের পাশে থাকার তাগিদ থেকেই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। রাজনীতিতে এসে কোনো সুবিধা নেওয়ার চিন্তা মোশারফ হোসেনের ছিল—এমনটা কল্পনাও করা যায় না। বরং তিনি অনেক দিয়েছেন এবং দেওয়ার সক্ষমতাও রাজনীতিতে আসার আগে থেকেই তার ছিল।
এ্যানি বলেন, মোশারফ হোসেন ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে এলেও ১৯৯০ সালের পর থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। স্মরণসভা আয়োজনের জন্য আয়োজক আব্দুল্লাহ সাহেবকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে আরও বিস্তৃত ও ব্যাপকভাবে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এমন আয়োজন করা হলে তারা সহযোগিতা করবেন।
দৈনিক আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক ও বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং বোরহান উদ্দিন ফয়াসাল ও আমির হোসেন জনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বিশেষ অথিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলম, মরহুম মোশাররফ হোসেনের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস পত্রিকার পরিচালক ফারাহ আঞ্জুম বারী, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মশিউর হরমান বিপ্লব, আবু তালেব, বিএনপি নেতা ইয়াকুব নবী, নুরুল আমিন ভূঁইয়া বাদশা, মোরশেদ আলম প্রিন্স, নাজমা সুলতানা ঝংকার প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


