ঢাকাই সিনেমার মেগা স্টার শাকিব খানের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা প্রিন্স দর্শকদের হতাশ করেছে। খোদ শাকিব ভক্তরাও সিনেমাটা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, প্রায় ১৪ কোটি টাকা খারচ করে প্রযোজকের পকেটে উঠেছে তিন কোটি টাকা। সেই তিন কোটি টাকাও খরচ হয়েছে সিনেমার প্রচারে। সিনেমাটির লেখক নির্মাতা মেসবাহ উদ্দিন সুমন।
ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে সিনেমাটি ‘নষ্ট’ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। প্রসঙ্গত ‘প্রিন্স’ শিরোনাম দিয়ে তিনি লেখেন, ‘শাকিব খানকে গল্প শোনানোর সময় ক্লাইম্যাক্সের দিকে আমি একটু থেমে গিয়েছিলাম। উনি এক্সাইটমেন্টে জাস্ট উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেন, তারপরে...? পুরো গল্প শুনে উনি চুপ করেছিলেন পাঁচ মিনিট। তিন দিন পরে আমাকে ডেকে পুরো সিন বাই সিন উনি কীভাবে অভিনয় করবেন দেখাচ্ছিলেন। একবার শুনেছেন গল্প তাতেই সব উনার মনে আছে। উনি আপদমস্তক একটা ফিল্ম। আমাকে বলতেন, ‘ভাই স্ক্রিপ্ট ব্রাশ আপ করতে থাকেন। দেখবেন সেই হয়ে যাবে।’
গল্পের প্লট নিয়ে সুমন লেখেন, ‘৯০ দশকের সেই সময়ের বিভিন্ন গ্যাংস্টারদের কাছ থেকে শুনে শুনে, কিছু নিজের চোখে দেখে দেখে গ্যাংস্টারদের লাইফ নিয়ে এই গল্পটি তৈরি করেছিলাম ২০১৮ সালে। নানা রকমভাবে এর চিত্রনাট্যও লেখা হয়েছিল।’
এরপর সিনেমাটা নষ্ট হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এই নির্মাতা ও লেখক জানান, ‘কিন্তু কে জানত পরিচালকের মাথায় একটা তুফান-২ ঢুকে ছিল। এখনতো বুঝি তার মিনিমাম কোনো ভিজ্যুয়াল ছিল না। শুরু থেকেই সে কনফিউজড ছিল। একে তাকে ধরে আনতো গল্প শোনানোর জন্য। মোটামুটি ২৫-৩০ জনকে আমি গল্প শুনিয়েছি। স্ক্রিপ্ট রাইটার নাজিমউদ্দৌলা ভাইতো পুরা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। উনি বিরক্তিতে আসত না। খালি বলতো এই ছেলেতো ভীষণ কনফিউজড।
একদিন আমাকে হায়াত (প্রিন্স ছবির নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ) বলে হিরো সবসময় পিয়ানো বাজাবে তার পিয়ানো থেকে গুলি বের হয় এমন একটা জিনিস করেন। আমি আর নাজিম ভাই হাসা শুরু করলাম। বললাম না না ভাই এটা কইরেন না। লোকে হাসবে। সে খুব কনফিডেন্ট। না না, দেখবেন নতুন কিছু হবে। তারপরে আরেকদিন বলে শুনেন আফগানী পাঠানের সঙ্গে সব সময় মুরগি থাকে। আমি বললাম ভাই ভিলেনের হাতে থাকবে মুরগি? এটা হইলো কিছু? তার চেয়ে এখানে সেই সময়ের বিখ্যাত সন্ত্রাসী মুরগি মিলনের ক্যারেক্টার তো আছেই। সেখানে দরকারে মুরগি রাখেন। সে বলে, না, আফগানী পাঠানের কোলে মুরগি রাখবেই। সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে নাজিম ভাই বলল, ভাই এই ছেলে সিনেমা বানাতে পারবে? আমার তো মনে হয় পারবে না। শুধু শুধু এতো ভালো গল্পটা ওরে দিয়ে নষ্ট করলেন। আমার খাটনিও ফাও যাবে।’ বলিউড তারকা সালমান খান কিংবা কলকাতার নায়ক প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়কে দিয়ে ক্যামিও করানোর কথাও লেখককে প্রিন্স সিনেমার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন শাকিব খানও।
সম্প্রতি সিনেমার একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে গিয়ে শাকিব খান বলেন, 'আমি যখন ‘প্রিন্স’ সিনেমার গল্প শুনেছি তখন মনে হয়েছিল এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সিনেমা হতে যাচ্ছে। হয়তো সময় স্বল্পতার কারণে আমরা সেটা করতে পারিনি। এজন্য নির্মাতাসহ সবার পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি আমার পরবর্তী সিনেমাতে ত্রুটিগুলো খেয়াল করব। এরপর এই নায়ক বলেন, ‘আমি ৩০টির বেশি গল্প শুনে একটি গল্প পছন্দ করি। বলতে গেলে, সারা বছরই গল্প শুনি। এরপর একটি গল্প পছন্দ করি। কিন্তু এবার যেটা হয়েছে সেটা ভিন্ন। আমরা তিন মাস ভারতে কাজের অনুমতি পাইনি। এরপর যা হয়েছে সেটা আরো ভয়াবহ। যেখানে আমাদের সিনেমার সেট ফেলা হয়েছিল সেটা ভেঙে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখানেও অনেক সময় চলে গেছে। ফলে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের কাজ করতে হয়েছে। যার কারণে সময়ের অভাবে অনেক ত্রুটি থেকে গেছে। হায়াত মাহমুদ অনেক ভালো ও মেধাবী একজন নির্মাতা। আমরা যদি উপযুক্ত সময় পেতাম তাহলে ভালো কিছু হতো। আমার জীবনের এইটা কোনো সিনেমা যেটার শুটিং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত করেছি। তাসনিয়া ফারিণের সঙ্গে আইটেম গানের শুটিং ঈদের আগেই করেছি। এছাড়া পরী গানের শুটিং একদিনে শেষ করেছি। এগুলো হয়েছে শুধু সময়ের কারণে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

