জেনেভায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ উদ্যোগের প্রশংসা

জেনেভায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ উদ্যোগের প্রশংসা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কমিশনের ১৬তম অধিবেশনে কার্যকর বাস্তবায়নের অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের অধিবেশন গত সোমবার শুরু হয়। পাঁচ দিনব্যাপী এ অধিবেশন শুক্রবার শেষ হবে। শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, সরবরাহব্যবস্থা ও বিনিয়োগ প্রবাহে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে তাদের বিনিয়োগ নীতি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করছে, তা নিয়ে কমিশনে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও তিউনিসিয়াকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। দেশ দুটির উদ্যোগ ও অর্জনকে অন্যান্য উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য কার্যকর মডেল হিসেবে আলোচনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। তিনি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশের বাস্তবায়নকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

এ সময় নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, ‘বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে হলে বাস্তব বাধাগুলো দূর করতে হয়—নিরাপত্তা ছাড়পত্র দ্রুত করা, বৈদেশিক অর্থায়ন সহজ করা, মূলধন প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো। গত বছর আমরা এসব অঙ্গীকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছি, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং ফলাফলও প্রকাশ করেছি। এ বছর আমরা ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি; এর ফলও শিগগির প্রকাশ করা হবে। এই জবাবদিহির চর্চা উদ্যোগগুলোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনার ভিত্তি ছিল আঙ্কটাডের ‘রিপোর্ট অন দ্য ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ অব বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে ২০১৩ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউয়ের সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, ডিজিটাল বিনিয়োগসেবা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন সক্ষমতায় বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি উল্লেখ করা হয়, আঙ্কটাড ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬-এ বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানের আরও স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। গত বছর গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ পাওয়া স্বল্পসংখ্যক স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে আঙ্কটাড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশকে উল্লেখ করা হয়েছে। আঙ্কটাড এমন পদক্ষেপকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিবেশ সহজ করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে (পিপিপিএ) একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ সহায়তা, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এখন একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় এসেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ইউএনসিটিএডের ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউয়ের একটি সুপারিশও বাস্তবায়িত হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন