রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ নূর উদ্দিন আবীর। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি পদে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী আবীর সম্প্রতি আমার দেশ-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তার অঙ্গীকার নিয়ে কথা বলেছেন।
শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, ‘আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেক আগে থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করে আসছি। আমি ছাত্রদের কল্যাণে, তাদের অধিকার আদায়ে এবং তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে চাই। তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
নিজেদের প্যানেলের বিষয়ে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের প্যানেলে চারজন নারী আছেন। একজন এজিএস পদে লড়বেন। ক্রীড়া সম্পাদক প্রার্থী জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়। অন্যদের তুলনায় আমরা নারীদের প্রাধান্য দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈচিত্র্যময় প্যানেল করেছি আমরা। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে।’
নির্বাচিত হলে কী করবেনÑএমন প্রশ্নের জবাবে আবীর বলেন, ‘যেখানেই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন, যেখানে তাদের অধিকার আদায়ের কথাÑসেখানে আমি থাকব। বিশেষ কোনো সেক্টর না, সব সেক্টরে কাজ করব। শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে কথা বলা দরকার সেখানে থাকব ইনশাআল্লাহ। এছাড়া শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা, একাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন, গ্রন্থাগার সংস্কার ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্র নিয়ে কাজ করব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার কথা তুলে ধরে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ‘আবাসন সমস্যা সমাধান আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। যারা অনাবাসিক আছেন তারা কোনোভাবেই হলে আসন পাচ্ছেন না। বিশাল একটা অংশ, প্রায় ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী অনাবাসিক। তাদের হলে আসন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে প্রশাসন। আমরা নির্বাচিত হলে শতভাগ আবাসিক করার জন্য প্রশাসন থেকে একটা রূপরেখা নেব। যদিও এটা একদিনে সম্ভব না, এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা অনাবাসিক ভর্তুকি চাই। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা অবশ্যই কাজ করব।’
শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, আরেকটা সমস্যা হচ্ছে অর্থের ছড়াছড়ি। কোনো একটা গোষ্ঠী বা প্যানেল অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু অন্য প্যানেল বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের অর্থাভাবে ঠিকমতো প্রচার চালাতে পারছেন না। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে বডিশেমিংসহ কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হচ্ছে, যা অন্যতম একটা সমস্যা।
ডাকসু-জাকসুর প্রভাব রাকসুতে পরবে কি নাÑজানতে চাইলে ছাত্রদলের এই ভিপি প্রার্থী বলেন, ‘লর্ডসের পিচ ও মেলবোর্নের পিচ দুটি আলাদা। এক টিম, দুই জায়গায় কিন্তু দুই রকম রেজাল্ট হয়। সুতরাং ডাকসু, জাকসুর সঙ্গে রাকসুর তুলনা করবেন না, এখানে পিচ আলাদা। ওখানে যারা ভালো করেছে এখানে তারা নাও করতে পারে। সুতরাং আমি আশাবাদী ডাকসু ও জাকসুর প্রভাব এখানে পড়বে না। আমাদের আলাদা পরিবেশ, আলাদা কালচার। সুতরাং আমরা ওটা নিয়ে ভাবছি না। আমরা ডাকসু, জাকসুর পরাজয়ের কথা না ভেবে রাকসু নিয়ে ভাবছি।’
ছাত্রদল ডাকসুতে ভোট প্রত্যাখ্যান আর জাকসুতে বর্জন করেছে। রাকসুতে কি এমন হওয়ার সম্ভাবনা আছেÑজবাবে শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের যে নির্বাচন কমিশন তারা কতটা সদিচ্ছাপূর্ণ তা আমরা জানি না। তবে আমরা আশা করছি তাদের সদিচ্ছায় একটি স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। আমাদের নির্বাচন বর্জনের বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই। আশা করছি এমন কোনো পরিবেশ তারা সৃষ্টি করবেন না, যাতে শুধু আমরা না, একটা গোষ্ঠী বাদে সবাই বর্জন করতে বাধ্য হয়। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয় সেখানে বর্জনের কোনো প্রশ্নই আসে না।’
শিক্ষার্থীরা কেন আপনাদের ভোট দেবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্যানেল বৈচিত্র্যময়। এখানে সব ধরনের শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা বিশেষ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবেন এবং রাখছেনও। এটা শিক্ষার্থীরাও জানেন। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থেকে, তাদের দাবি আদায়ে কাজ করি। তারা ছাত্রদলকে ভালোবাসেন। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি।’
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভিপি প্রার্থী আবীর বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আশাবাদী। কারণ ৫ আগস্ট-পরবর্তী যে নৈতিক চরিত্র হরণের একটা প্রচেষ্টা চলেছে সেখানে আমরা আমাদের নৈতিক চরিত্র ধরে রেখে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছি। তাদের জন্য সর্বদা কাজ করে গেছি। আশা করি তারা যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

