আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শীতের স্থায়িত্ব কমায় মৌসুমি ফসলে নেতিবাচক প্রভাব

সরদার আনিছ

শীতের স্থায়িত্ব কমায় মৌসুমি ফসলে নেতিবাচক প্রভাব

শীতের স্থায়িত্ব কমে যাওয়ায় কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে শীতকালীন রবিশস্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সার্বিকভাবে শীতকালীন ফসলের উৎপাদন কমে কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে জানান কৃষিবিদরা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এবারের মৌসুমে শীত দেরিতে আসা এবং স্থায়িত্ব কম হওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। এ আবহাওয়ার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শীতকালীন ফসল।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন আমার দেশকে বলেন, প্রতিটি ফসলের একটা নির্ধারিত তাপমাত্রার স্তর থাকে। শীতকালীন ফসল যেমন—আলু, গম, ভুট্টা, সরিষা, টমেটোর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ বা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে টানা প্রায় আড়াই মাস থাকতে হয়। কিন্তু শীত কমে গিয়ে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে এসব ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একসময় আমাদের দেশে গমের ব্যাপক চাষ হতো, আবহাওয়ার পরিবর্তনে সে অবস্থা আর নেই। দেশে গমের উৎপাদন কমে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে গম ও আটা-ময়দা জাতীয় পণ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে।

এই কৃষিবিদ আরো বলেন, শীতকালীন ফসল সবচেয়ে বেশি হয় রাজশাহী ও রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে। শীতের ব্যাপ্তি কমে যাওয়ায় ওইসব এলাকায় চাষাবাদে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এটা ঠিক যে শীতের ব্যাপ্তি কমে যাওয়ায় বিগত বছরগুলোতে গমের চাষ কমে গিয়েছিল। তবে এখন আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার থেকে মানুষ গমের চাষ আবার শুরু করেছে।

তিনি জানান, মূলত অক্টোবর-নভেম্বরে আমন ধান ঘরে তোলার পর কৃষক শীতকালীন ফসলের চাষ করে। এক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গে আগে ফসলের চাষ হয়। এরপর তিন মাসে মধ্যে ফলন ঘরে তোলা যায়। অর্থাৎ গম, আলু, টমেটো কিংবা সরিষার জন্য কমপক্ষে ৯০ দিন সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু তাপমাত্রা বেড়ে শীত কমতে থাকায় শীতকালীন ফসল দ্রুত পরিণত হয়ে যায়। তখন আর ফলন ভালো হয় না। ফলন কম হলে পরবর্তী সময়ে কৃষকরা ওইসব ফসল চাষে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ এসএম কামরুল হাসান বলেন, তিন বছর ধরেই বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। সেটার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তাপমাত্রার সঙ্গে উৎপাদনের সম্পর্ক রয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শীতকালীন কিছু ফসল দ্রুত পরিণত হয়ে ফলন কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী মৌসুমে ধীরে ধীরে কৃষক ওই ফসলের আবাদ থেকে সরে আসে। এ কারণে দেশে গমের উৎপাদন কমে গেছে বলেনও জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর দিন এবং রাতের তাপমাত্রায় খুব কম পার্থক্য ছিল, এক দশমিক সাত ডিগ্রি হয়েছিল। যা ৭৩ বছরের রেকর্ড অনুসারে অস্বাভাবিক।

এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, চলতি মাসের প্রথম দিক থেকে মাঝামাঝিতে টানা কয়েকদিন ঘনকুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের পর কয়েকদিন বঙ্গোপসাগরে যে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে আশপাশ এলাকার বাতাসের জলীয়বাষ্প শোষণ করে নেওয়ায় বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে হঠাৎ তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহও নেই; আবার তাপমাত্রা কমারও তেমন কোনো লক্ষণ নেই। মাঝে তাপমাত্রা সামান্য কমলেও জানুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়ার এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে।

তবে গতকাল রাতে আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, আগামী দুই থেকে তিনদিন পর তাপমাত্রা কমে শীত বাড়তে পারে। তবে আগের মতো তীব্র শীতের কোনো শঙ্কা নেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...