ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভ্রাম্যমাণ দোকানকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ডাকসুর এক সদস্যের তোলা অভিযোগকে ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত বছরের ২১ ডিসেম্বরের কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে একাধিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।
পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী হাতুড়ি দিয়ে ভ্রাম্যমাণ ফুটকার্টে আঘাত করছেন এবং একপর্যায়ে একটি কার্টে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
তবে ভিডিওটির অপর অংশ, যা আমার দেশ-এর হাতে এসেছে, সেখানে দেখা যায়, -প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য প্রথমে দোকানগুলোতে ভাঙচুর করছেন এবং পরে হাতুড়ি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন।
ভাঙচুরে জড়িত থাকা এক শিক্ষার্থী আমার দেশ-কে জানান, কিছুদিন আগে তারা আইএমএল গেট এলাকায় দোকান দিতে গেলে প্রশাসনের উচ্ছেদের মুখে পড়েন। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে টিএসসি ও আশপাশের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য প্রক্টরিয়াল টিমকে ডেকে আনেন।
তারা বলেন, “একটি দোকানকে বারবার বলার পরও সরানো হচ্ছিল না। উল্টো তারা আমাদেরকে বলে- ‘আমরা দোকান করবো, সরাবো না, যা পারেন করেন।’ এতে আমরা ক্ষিপ্ত হই এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এক পর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ভাঙচুর শুরু করলে রাগের মাথায় আমরাও তাতে অংশ নিই।”
চাঁদাবাজির অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তারা বলেন, “এ ধরনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারবে না। এক মাস আগের ঘটনা নির্বাচনের আগে সামনে এনে তারা একটা মোমেন্টাম তৈরি করতে চায়।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমি প্রক্টরিয়াল টিমের সাথেই ছিলাম। এখন আমাকে চাঁদাবাজ বলে প্রচার করা হচ্ছে।”
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি আমার দেশ-কে বলেন, “আমাদের কাছে অনেক প্রমাণ আছে। ইতোমধ্যে অনেক সাংবাদিককে আমরা তথ্য দিয়েছি কিন্তু কেউ নিউজ করছে না। এখন আমাদের কাছে থাকা তথ্যগুলো সাজানো হচ্ছে। সকালে ডাকসুর সামনে সেগুলো প্রদর্শন করা হবে।”
উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে- ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ভ্রাম্যমান দোকানপাট নিষিদ্ধ করা হয়। প্রক্টরিয়াল টিম, ডাকসু ও মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়।
এদিকে কর্তব্যরত প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের অভিযোগ, প্রক্টর অফিস থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের নির্দেশ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে হকারদের পক্ষ নেয়। এমনকি ডাকসু নেতারাও নির্দিষ্ট কিছু দোকানপাট উচ্ছেদ না করতে তদবির করেন।
প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হারুন ইসলাম বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে শনিবার রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ায় একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ, সদস্য সর্বমিত্র চাকমাসহ হল ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

