ইসরাইলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

ইসরাইলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি সহায়তা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার জন্য একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরব যদি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই চুক্তি কোনোভাবেই আলোর মুখ দেখবে না।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তি গত জুলাই মাসে চূড়ান্ত হয়েছিল। এর আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি রপ্তানির সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এপি১০০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই প্রকল্পে লাভবান হবে কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েস্টিংহাউস’।

কংগ্রেসের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চুক্তিটি সোমবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এটি বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৯০টি অধিবেশন দিবস সময় থাকবে। এই মেয়াদের মধ্যে কংগ্রেস যদি কোনো আপত্তি বা প্রস্তাব পাস না করে, তবে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তবে কংগ্রেস এটিকে প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। আর ট্রাম্পের সেই ভেটোকে বাতিল করতে হলে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।

মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট—সৌদি আরব মার্কিন মধ্যস্থতায় আয়োজিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিয়ে ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলেই কেবল চুক্তিটি বাস্তবায়িত হবে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ও সৌদির সঙ্গে এই চুক্তির চেষ্টা হয়েছিল এবং সেখানেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তটি ছিল। ২০২৩ সালে সৌদি-ইসরাইল কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর সব হিসাব বদলে যায়। বর্তমানে রিয়াদ তাদের অবস্থানে অনড় থেকে স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ‘অপরিবর্তনীয় ও স্পষ্ট পথ’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরাইলকে কোনো কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তি ঘিরে বিতর্কের ঝড়

এদিকে চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিশ্লেষকরা এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু সৌদির সঙ্গে প্রস্তাবিত নতুন এই চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর সরাসরি কোনো কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি, যা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আইন অনুযায়ী চুক্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও বিস্তার রোধের সকল শর্তই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু নন-প্রলিফারেশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের প্রধান হেনরি সোকোলস্কি মনে করেন, কংগ্রেসে এটি জমা দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প একটি বিপজ্জনক পথ তৈরি করেছেন। এর ফলে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছাড়াই কংগ্রেস থেকে চুক্তিটি পাস হয়ে যাওয়ার একটি আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন