প্রচলিত মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতির পরিবর্তে শিক্ষার্থীর শেখার ধরন, পরীক্ষার আগে একজন শিক্ষার্থী কতটা প্রস্তুত, কোন বিষয়ে তার দুর্বলতা এবং কোথায় আরো অনুশীলন প্রয়োজন এসব তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করতে যাত্রা শুরু করেছে ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফরম ‘প্র্যাক্সিস একাডেমি’। মঙ্গলবার প্র্যাক্সিস একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক করতে স্মার্ট অনুশীলন, সরাসরি পরীক্ষা, প্রশ্নভাণ্ডার, অগ্রগতি বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করে ফলাফল উন্নয়নে সহায়তা করাই প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম লক্ষ্য।
প্র্যাক্সিস একাডেমিতে রয়েছে ই-পাঠাগার, বিষয় ও পাঠভিত্তিক অনুশীলন, প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো পরীক্ষা, সরাসরি পরীক্ষা, প্রশ্নভাণ্ডার, অগ্রগতি প্রতিবেদন ও অবস্থান তালিকা। এসব সুবিধার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনাই করবে না, নিয়মিত নিজেদের প্রস্তুতির অবস্থাও যাচাই করতে পারবে।
প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম বিশেষ সুবিধা ‘প্র্যাক্সিস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যক্রমভিত্তিক সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর ও ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করবে এটি।
পড়ার সময় কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাখ্যা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ই-পাঠাগারের মাধ্যমে মুঠোফোনেই পাঠ্যসূচিভিত্তিক পড়াশোনা করা যাবে। পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করা, নিজের নোট যুক্ত করা এবং পর্দায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। কোনো বিষয় পড়ার পর ‘সক্রিয় স্মরণ’ পদ্ধতিতে শেখা বিষয় কতটা আয়ত্ত হয়েছে, তা যাচাই করা যাবে অনুশীলন সুবিধার মাধ্যমে।এ ছাড়া নির্দিষ্ট বিষয় বা পাঠ নির্বাচন করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। এতে শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে নিজেদের জ্ঞান, ভুলের ধরন এবং সময় ব্যবস্থাপনা যাচাই করতে পারবে। সরাসরি পরীক্ষার সুবিধার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা একই সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
প্রশ্নভাণ্ডারে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও সমাধান। এর মধ্যে রয়েছে বিগত বছরের বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন, ক্যাডেট কলেজ এবং বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রশ্ন। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন করতে পারবে।
প্ল্যাটফরমটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো প্রস্তুতির বিশ্লেষণ। অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে ভালো করছে এবং কোথায় পিছিয়ে আছে, তা শনাক্ত করা যাবে। পাশাপাশি অবস্থান তালিকার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীর তুলনায় নিজের অবস্থানও দেখা যাবে।
এ ব্যাপারে প্র্যাক্সিস একাডেমির ব্যবসা বিভাগের প্রধান প্রণয় মণ্ডল বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কাছে ভালো শিক্ষামূলক বিষয়বস্তুর অভাব নেই। ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে তারা অসংখ্য মানসম্মত বিষয়বস্তু পাচ্ছে। কিন্তু এসব বিষয়বস্তু দেখার পরও পরীক্ষার আগে অনেক শিক্ষার্থী নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না—তার প্রস্তুতি কতটা হয়েছে, কত নম্বর পেতে পারে কিংবা প্রকৃত দুর্বলতা কোথায়।
তিনি বলেন, শেখা এবং কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে। সেটি হলো কার্যকর অনুশীলন, ভুল সম্পর্কে ধারণা এবং নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান।
প্রণয় মণ্ডল বলেন, এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই প্র্যাক্সিস একাডেমিকে অনুশীলনভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। শুধু বেশি বিষয়বস্তু বা প্রশ্ন দেওয়া নয়; শিক্ষার্থী কী শিখেছে, কোথায় ভুল করছে, কোন বিষয়ে আরো অনুশীলন প্রয়োজন এবং তার প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে—এসব বিষয়কে ধারাবাহিক শিক্ষাযাত্রার মধ্যে নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার দিকে নিয়ে যেতে চান তারা। প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন নিজের প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী অনুশীলনের সুযোগ পায়, সেটিই তাদের লক্ষ্য।
প্রচলিত বই পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরো আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ভবিষ্যতে মিথস্ক্রিয়াশীল ই-বই চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


