নিউইয়র্কে মেডিকেড জালিয়াতি

জাকিয়া খানের ৭৬ মাসের জেল ও ৬৮৩ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ

জাকিয়া খানের ৭৬ মাসের জেল ও ৬৮৩ কোটি টাকা ফেরতের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বা প্রায় ৭৮০ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের মেডিকেড জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মামলায় জাকিয়া খান নামে এক ডে-কেয়ার মালিককে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। একই সঙ্গে ৫৫ বছর বয়সী খানকে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ৬৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আরো ৫০ লাখ ডলার বা ৬১ কোটি টাকা অর্থ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ড এলাকায় খানের মালিকানাধীন দুটি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার সেন্টার এবং একটি হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চালানো হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে খান হেলথ কেয়ার জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণা এবং অবৈধ হেলথ কেয়ার কিকব্যাক দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, খান হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ও ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার পরিচালনা করতেন। পাশাপাশি তিনি রেসপনসিবল কেয়ার স্টাফিং নামে একটি হোম হেলথ কেয়ার ফিসকাল ইন্টারমিডিয়ারিও পরিচালনা করতেন। জালিয়াতির অর্থ গ্রহণ ও গোপন করার জন্য টানউই সার্ভিসেস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন মার্কেটারের মাধ্যমে মেডিকেড সুবিধাভোগীদের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে ভর্তি করানো হতো। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, খান ও তার সহযোগীরা সুবিধাভোগীদের নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে এমন সেবার জন্য নিবন্ধিত করতেন, যা বাস্তবে দেওয়া হয়নি। পরে এসব সেবার বিপরীতে মেডিকেড-এর কাছে বিল জমা দেওয়া হতো।

তদন্তে দেখা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দুই ডে-কেয়ার সেন্টার মেডিকেড-এর কাছে প্রায় ৭৮০ কোটি ৮০ লাখ টাকার ভুয়া বিল জমা দেয়। এর মধ্যে মেডিকেড কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ করে। জালিয়াতির অর্থ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘুরিয়ে নগদ করা হতো। পরে ওই অর্থের একটি অংশ মার্কেটার ও মেডিকেড সুবিধাভোগীদের ঘুষ ও কিকব্যাক হিসেবে দেওয়া হতো বলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান।

আদালতের নথিতে আরো বলা হয়েছে, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ভুয়া অ্যাটেনডেন্স শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হতো। তদন্তের অংশ হিসেবে খানের অফিসে অবৈধ কিকব্যাক দেওয়ার একটি আন্ডারকভার রেকর্ডিংও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হাতে আসে।

খানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও দুটি সম্পত্তিসহ জালিয়াতির অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এসব অর্থ ও সম্পদের মধ্যে মোট ৬১ কোটি টাকা পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

মামলাটির তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বিচারক নাতাশা সি. মার্লে খানের সাজা ঘোষণা করেন।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন