নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে নিজেদের শুরুটা জয় দিয়ে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ। এবার বড় পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘বি’-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের প্রদীপ্ত আলোয় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের সমীকরণ সহজ করতে দুদলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
চলতি এশিয়া কাপে দুদলই জয় দিয়ে নিজেদের মিশন শুরু করেছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে তারা ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে দেশের মেয়েরাও পিছিয়ে নেই। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কারই মতো আধিপত্য বজায় রেখে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। ফলে আজকের ম্যাচে জয় পেলেই নিগার সুলতানা জ্যোতির দল সেমিফাইনালের দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে যাবে।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুদলের সাম্প্রতিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে শ্রীলঙ্কা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছিল লঙ্কানরা।
তবে ঘরের মাঠের সেই তেতো স্মৃতি ভুলে নিরপেক্ষ ভেন্যু দুবাইতে এবার প্রতিশোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। তাতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেই হারের হিসাব মেলাতে মরিয়া হয়েই মাঠে নামবে জ্যোতিরা।
মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে দুবাইয়ের কন্ডিশন ও দলগত শক্তি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই স্পিনবান্ধব। যেহেতু ম্যাচটি রাতে হবে, তাই ম্যাচের দ্বিতীয়ভাগে শিশিরের একটি বড় প্রভাব থাকতে পারে। ফলে টসজয়ী অধিনায়কের ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে রান তাড়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
দলগত শক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান শক্তি তাদের বোলিং বিভাগ, বিশেষ করে স্পিন ও পেসের চমৎকার মেলবন্ধন। মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তার ও সুলতানা খাতুনের সমন্বয়ে গড়া বোলিং আক্রমণ লঙ্কান ব্যাটারদের আটকে রাখার মূল অস্ত্র। আর ব্যাটিং বিভাগে বাংলাদেশের আস্থা ওপেনার দিলারা আক্তার, সোবহানা মোস্তারী ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা দলের মূল কাণ্ডারি তাদের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে থাকা হার্শিথা সামারাবিক্রমা ও বিষ্মী গুণারত্নে টাইগ্রেস বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন। বোলিং বিভাগে শ্রীলঙ্কার বড় শক্তি ইনোকা রানাভিরা ও উদেশিকা প্রবোধনী।
শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শেষ চারে উঠার মিশনটা সহজ করতে চায় বাংলাদেশের মেয়েরা। শুধু সেমিফাইনালই নয়, লাল-সবুজের জার্সিধারীরা খেলতে চান শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও। তাই তো ঢাকা ছাড়ার আগেই অধিনায়ক জ্যোতি বলেছেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য কেবল সেমিফাইনাল নয়, ফাইনাল খেলা। অতীত টুর্নামেন্টগুলোতে বেশ কয়েকবার আমরা সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছি, এবার সেই বাধা পার করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’
গ্রুপ সেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালে ভারতের মতো পরাশক্তিকে এড়ানো সহজ হবে। টপ-অর্ডার ব্যাটাররা ভালো শুরু এনে দিলে আমাদের ফাইনালে ওঠার পথ অনেক মসৃণ হবে।’
এশিয়া কাপের ইতিহাস বলছে, ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। যদিও ২০১২ ও ২০২৪ সালের আসরে তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল সেমিফাইনাল থেকেই। মহাদেশীয় এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ভারত সর্বোচ্চ সাতবার এবং শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আজ রাতে শ্রীলঙ্কার লঙ্কান দুর্গ চূর্ণ করে দেশের কন্যারা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নপূরণের পথে কতটা এগোতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমী।
বাংলাদেশ সম্ভাব্য একাদশ
দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, শারমিন আক্তার, নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক/উইকেটরক্ষক), সোবহানা মোস্তারী, স্বর্ণা আক্তার, ঋতু মণি, রাবেয়া খান, সুলতানা খাতুন, মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তার।
শ্রীলঙ্কা সম্ভাব্য একাদশ
চামারি আতাপাত্তু (অধিনায়ক), বিষ্মী গুণারত্নে, হার্শিথা সামারাবিক্রমা, হাসিনি পেরেরা, নিলাক্ষী ডি সিলভা, কাভিশা দিলহারি, ইমেশা দুলানি, সুগন্ধিকা কুমারী, ইনোকা রানাভিরা, কাভিয়া কাভিন্দি ও উদেশিকা প্রবোধনী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

