তিন জেলায় তার ১৮ মামলা

সেই আসামির যাবজ্জীবন সাজার পরোয়ানা গায়েব

সেই আসামির যাবজ্জীবন সাজার পরোয়ানা গায়েব
ছবি: সংগৃহীত

আসামির যাবজ্জীবন হয়েছে এক বছর আগে। রায় অনুসারে, সেই পরোয়ানা রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার কথা। কিন্তু এক বছরেও সেই পরোয়ানা পৌঁছায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ দেওয়ায় সেই পরোয়ানা আটকে রাখা হয়েছে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম সুমন রেজা। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের গঙ্গারামপুর গ্রামে। মাদক ও জাল রুপির কারবারে জড়িত তিনি। রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় তার বিরুদ্ধে থাকা অন্তত ১৮টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় বর্তমানে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

বিজ্ঞাপন

কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার আল-মামুন জানান, সুমন রেজা বর্তমানে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও দামকুড়া থানার দুটি বিচারাধীন মামলায় কারাবন্দি। কিন্তু যাবজ্জীবন সাজার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

তবে সুমন সম্পর্কে নথি ঘাঁটতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ২০২২ সালে রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকা থেকে ৫০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন। ওই সময় সুমন আলী নামে আরও একজন গ্রেপ্তার হন। সুমন আলীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের তেত্রিশ-রশিয়া গ্রামে। এই মামলায় জামিন নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যান।

তাদের অনুপস্থিতিতে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর এই মামলার রায় হয়। রায়ে তাদের দুজনেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

সোমবার দুপুরে আদালতে গিয়ে জানা যায়, আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান গত বছরের ৮ এপ্রিল দুজনের সাজা পরোয়ানা আরএমপির আদালত পরিদর্শকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেন। নিয়ম অনুযায়ী আদালত পরিদর্শক সেটি আরএমপির প্রসিকিউশন শাখার উপপুলিশ কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে পাঠান। তারপর সেটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় হয়ে শিবগঞ্জ থানায় পৌঁছানোর কথা।

তবে আরএমপির আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিকের কার্যালয়ে সুমন রেজার সাজা পরোয়ানাটি আটকে যায়। সূত্র জানিয়েছে, অর্থের বিনিময়ে এই পরোয়ানা আটকে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিক বলেন, এখানে প্রতিদিন বহু ওয়ারেন্ট আসে। ওয়ারেন্টের কপি না দেখলে বলতে পারব না।’

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার পরিদর্শক মুজিবুর রহমান জানান, আরএমপি থেকে গত বছরের ৫ জুন তারা শুধু সুমন আলীর সাজা পরোয়ানা পান।

এরপর সেটি ১৩ জুলাই আদালত পরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পরোয়ানাটি শিবগঞ্জ থানায় পৌঁছে ১৯ নভেম্বর। সুমন রেজার পরোয়ানাও একই সঙ্গে যাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) একরামুল হক বলেন, ‘বিষয়টি এক মাধ্যমে আমি জেনে খোঁজখবর নিয়েছি। কিন্তু আমরা পরোয়ানা পাইনি। তবে আমরা জেনেছি আসামি অন্য মামলায় কারাগারে আছেন। তার পরও তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো যায়নি শুধু সাজা পরোয়ানা না থাকার কারণে।’

মাঝপথে সাজা পরোয়ানা ‘গায়েব’ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপির মুখপাত্র ও প্রসিকিউশন শাখার দায়িত্বে থাকা উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, কীভাবে কী ঘটেছে সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি। বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়ার পর জানানো হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন