আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন নারী প্রার্থীরা

এমরানা আহমেদ

স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন নারী প্রার্থীরা
স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন নারী প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত নারী প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচারে নেমে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন বলে আমার দেশকে জানিয়েছেন নারী প্রার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ। বাবার ঐতিহ্যের পথ ধরে বিএনপির রাজনীতিতে এসেছিলেন শামা ওবায়েদ। তিনি সব সময় এলাকায় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং আছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বর্তমানে নিজ নির্বাচনি এলাকায় প্রচারকাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচিত হলে পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাবার গণতান্ত্রিক আচরণ ও নীতি সব সময় আমাকে প্রভাবিত করেছে। বাবার জীবন ছিল মানুষের জন্য। নিজের কথা কখনো ভাবেননি। আমি সন্তান হিসেবে তার রেখে যাওয়া কাজগুলো সম্পাদন করতে চাই।’ তিনি আরো জানান, ‘মানুষের সঙ্গে আছি এবং থাকব। মানুষ কী চায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করব। ফরিদপুরকে একটি মডেল জেলা করা আমার প্রধান লক্ষ্য।’

ঢাকা-২০ আসন (ধামরাই) এনসিপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ। তিনি ধামরাই উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন মুখ হিসেবে তার প্রার্থিতা ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, শিক্ষিত, ভদ্র ও কর্মঠ নারী হিসেবে তিনি ধামরাইয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি করতে পারবেন। এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী নির্বাচনে তরুণ ও যোগ্য নতুন নেতৃত্বকে সামনে এনে রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই নাবিলা তাসনিদকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকার মেয়ে। আমার কথা পরিষ্কার—ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনকে অবহেলার দিন শেষ। আমরা সমান ট্যাক্স দিই, আমাদের অধিকারও সমান। আমাদের ন্যায্য পাওনা এবার আমরা বুঝে নেব।’ আপনি যদি এই আসন থেকে নির্বাচিত হন, তাহলে আপনার এলাকার মানুষের জন্য কী ধরনের কাজ করবেন—আমার দেশ-এর প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে আমার এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকারত্ব দূর করব, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেব, আইটি পার্ক তৈরি করব, হাইস্পিড ইন্টারনেট সেবা চালু করব, আমার নির্বাচনি এলাকা ধামরাইকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখানকার নারী ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ফ্রি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।

কৃষিক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিয়নে ওয়ান স্টপ এগ্রো সাপোর্ট গ্রুপ তৈরি করব, যেখান থেকে আমার এলাকার সব কৃষক ট্রেনিং পাবেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতি কেনার ব্যবস্থা করব। উন্নত মানের হাসপাতাল তৈরি করব, সেইসঙ্গে হাসপাতালের ডাক্তাররা যেন উপস্থিত থেকে রোগীদের সেবা করেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করব। ধামরাইয়ের সব কর্মক্ষম মানুষের ডেটাবেজ তৈরি করে কর্মক্ষেত্রে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে উপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার ‘নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬’-এ এই বিষয়গুলো ছাড়াও আরো বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। আমার ইশতেহারে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি আমি পূরণ করার চেষ্টা করব।’ নাবিলা তাসনিদ বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাঁটছি। মানুষের কাছে যাচ্ছি, তাদের কথা শুনছি। বাজারে, রাস্তায় ও উঠানে যাচ্ছি।’

প্রচারে বাসদের দুই নারী প্রার্থী

চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী বাসদের (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার গত ২৩ জানুয়ারি নগরের গোসাইলডাঙা ও সদরঘাট এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। আনু মাঝির ঘাট এলাকায় উঠান বৈঠক করছেন। সেখানে তাকে দেখা যায়, মানুষের কাছে গিয়ে কাঁচি মার্কায় ভোট চাইতে। নারীরা কেউ তার সঙ্গে করমর্দন করছেন, কেউ বুকে জড়িয়ে ধরছেন। দীপা মজুমদার মুঠোফোনে বলেন, ‘ভোটের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। মানুষ আমাদের উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের প্রত্যাশার কথা শুনছি। নারী প্রার্থী হিসেবে সবাই আমাদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। আমরা তাদের বলেছি, এবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারবেন তারা।’

২৪ জানুয়ারি নগরের ঈদগাহ এলাকা থেকে প্রচার শুরু করেছেন বাসদের (মার্কসবাদী) আরেক প্রার্থী আসমা আক্তার। তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসনে নির্বাচন করছেন। আসমা আক্তার বলেন, ‘আগে নারীরা ভোটকেন্দ্রে যেতে চাইতেন না। তাদের ওপর নানা ধরনের চাপ ছিল। অনেকেই এখনো সন্দিহান, ভোট হবে কি না। প্রথম দিন বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে তারা আবার আতঙ্কিত। আমরা তাদের ভয় কাটাতে চাই। গত দুদিনে নগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছি।’ নারীদের শিক্ষা ও ভোটের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন তিনি। আসমা আক্তার বলেন, ‘মা-বোনদের ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল এত দিন। তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে এবং তাদের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলতে চাই। মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন