জীবনে একজন ভালো বন্ধুর গুরুত্ব অপরিসীম। সবার জীবনেই ভালো বন্ধুর প্রয়োজন রয়েছে। বন্ধু ছাড়া জীবন প্রায় অসম্ভব। বন্ধুত্ব এমন এক অদ্ভুত সম্পর্ক, যা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তবে জীবনের প্রতিটি বাঁকে বন্ধুত্বের সান্নিধ্য অনুভব করা যায়, সুখে-দুঃখে পাওয়া যায় বন্ধুত্বের অপার্থিব ছোঁয়া।
শুধু সুসময়ের সুজন নয় ব্যথা-বেদনা-কষ্ট, দুঃখ-যন্ত্রণা-হতাশা, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, দুষ্টুমি এবং সব গোপন কথা, ঘটনার সাক্ষী ও সঙ্গী হলো বন্ধু। যা কাউকে বলা যায় না, তা শুধু বন্ধুকে বলা যায়। অব্যক্ত কথা ও নীরব ব্যথা শুধু বন্ধুর সঙ্গেই শেয়ার করা যায়। তাই বন্ধু হচ্ছে অনুভূতির নিরাপদ আশ্রয়, বন্ধুত্ব হচ্ছে দুটি মানুষের মনের নির্মল আত্মীয়তা।
একজন ভালো বন্ধু উৎকৃষ্ট ও স্বচ্ছ আয়নার মতো। কিন্তু ইন্টারনেটের এই সহজলভ্যের যুগে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের দৌরাত্ম্যে এমন বন্ধুত্ব কি আদৌ পাওয়া সম্ভব? ফেসবুকে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্টের বিনিময়ে পাওয়া যায় পাঁচ হাজার বন্ধু।
আসলেই কি তাদের বন্ধু বলা যায়?
ছবি কিংবা স্ট্যাটাসে লাইক অথবা কমেন্টে ভাসিয়ে দিলেই কি সবাই ভালো বন্ধু হয়ে যায়?
সময়-অসময়ে পিংপং চ্যাটিং কিংবা ইমো দিয়েই ভাববিনিময়, মেসেজ আদান-প্রদানের নামই কি বন্ধুত্ব? আর এই পাঁচ হাজার বন্ধুর মুখ স্মরণ রাখা কিংবা সুখ-দুঃখের খবর জানা বা রাখা কি আদৌ কারো পক্ষে সম্ভব?
এসব বন্ধু কতটাই বা বিশ্বস্ত?
আর বিশ্বাস ছাড়া কি কখনো কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় বা করা সম্ভব, না বন্ধুত্বের মতো নির্ভেজাল সুন্দর, নিখাদ সম্পর্ক গড়ে ওঠে?
অপরিচিত কিংবা স্বল্পপরিচিত তথাকথিত বন্ধুর কাছে নিজের একান্ত জগৎ কি মেলে ধরা যায়?
কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করার আগে নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করুন। উত্তরে যা পাওয়া যায় তা নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। তাহলে অনেক সমস্যা থেকে নিজেকে সুরক্ষা দিতে পারবেন।
পত্রিকা খুললে, অনলাইন নিউজ পোর্টালে ঢুকলে কিংবা টেলিভিশনে প্রায়ই পাওয়া যায় লুণ্ঠন কিংবা ধর্ষণের সংবাদ। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ফেসবুক কিংবা অনলাইনে ব্যবহার ও বন্ধুত্ব করা দোষের কিছু না। তবে মানুষ না চিনে, না বুঝে, ঠিকমতো না জেনে যার-তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করাটা শুধু বোকামি নয়, দোষেরও।
কারণ অনেকে ফেক আইডি খোলে অনেকভাবে সরলতার সুযোগ নিয়ে ক্ষতি করে থাকেন। তাই সবার, বিশেষ করে তরুণীদের এ ব্যাপারে সচেতন থাকা আবশ্যক। সেই সঙ্গে বাবা-মায়েরও সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে, মায়েদের উচিত মেয়ে কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে, সেদিকে দৃষ্টি রাখা।
‘ফেসবুকে বন্ধুত্ব তারপর... ’ শিরোনামটা এমনই থাকে সেসব খবরে আর নিউজফিড হিসেবে চলে আসে ফেসবুকেরই ওয়ালে।
প্রতারণার অভিনব কৌশলে ‘ভার্চুয়াল’ বন্ধুর পাতা জালে আটকে যাচ্ছেন অনেক তরুণীই। চ্যাট হিস্ট্রি, খোলামেলা ছবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বন্ধুত্ব কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ে প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছেন অনেকেই। তাই সতর্কতা জরুরি।
বর্তমানে বন্ধুদের সঙ্গে কম যোগাযোগ স্বাভাবিক বিষয় হয়তো তাই ভিন্নপথ খুঁজতেই অনলাইন বন্ধুদের সঙ্গেই চলছে কথোপকথন। কিন্তু এই আলাপচারিতাই যদি হয় বিপদের কারণ? উত্তম বন্ধুত্ব আকস্মিকভাবে গড়ে ওঠে না বিশ্বাস, আস্থা ও সততার ফল। আর তাই বন্ধু প্রতিনিয়তই প্রভাব বিস্তার করে যাপিত জীবনে। বন্ধু নির্বাচনে ভুল হলে চরম মূল্য দিতে হতে পারে আর তাই ফেসবুক কিংবা অনলাইন বন্ধু থেকে সাবধান।
বর্তমানে বন্ধুত্ব মানেই যেন অনলাইন-বন্ধুত্ব। ফেসবুক, টুইটার থেকে শুরু করে ইয়াহু চ্যাট রুমÑকোথায় নেই বন্ধু! অনলাইন একটি চমৎকার জায়গা বন্ধুত্ব করার জন্য। এমনকি ডেটিং আর প্রেমে পড়ার জন্যও। কিন্তু একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, এই অনলাইনে বন্ধুত্ব একটি ভয়ানক বিপজ্জনক বিষয়।
অনলাইনে বন্ধুত্বের মাধ্যমেই নানা ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে আপনার। হতে পারেন বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও হ্যারাসমেন্টের শিকার। আর এগুলোর জন্য দায়ী আপনি নিজেই। ভাবছেন, আপনি কি করে দায়ী? তাহলে জেনে রাখুন, বুঝে-না বুঝে প্রতিদিন অনলাইনে আপনি এমন অনেক বোকামি করে চলেছেন, যা আপনাকে ঠেলে দিচ্ছে রীতিমতো ঝুঁকির দিকে। অনলাইন বোকামির কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো। মিলিয়ে নিন, এসবের মাঝে কোন বোকামিটি আপনি নিজেও করছেন!
প্রথম পরিচয়ে ফোন নম্বর দেওয়া : অনলাইনে পরিচয়ের শুরুতেই নিজের ফোন নম্বর দিয়ে দেওয়াটা অনেক বড় বোকামি। ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইয়াহু চ্যাট রুম যে মাধ্যমেই কারো সঙ্গে পরিচিত হন না কেন, অন্য পাশের সত্যিকার মানুষটিকে তো আপনি জানেন না বা চেনেন না। হয়তো আপনারই দেওয়া এই ফোন নম্বরটি চলে যাবে কোনো বাসের সিটের পেছনে; কিংবা টাকার ওপর। এই ফোন নম্বরে আপনাকে অনবরত বিরক্ত করা হতে পারে। আসতে পারে অশ্লীল মেসেজ ও কল। তাই এ ধরনের বোকামি করা থেকে বিরত থাকুন।
নিজের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে দেওয়া
অল্প কদিনেই নিজের জীবনের সব ব্যক্তিগত কথা বলে দেওয়া আরেকটি বোকামি বা ভুল। একটু পরিচয়েই নিজের ব্যক্তিগত কথা কাউকে বলা উচিত না। এতে পরে বিপদে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আপনি কী করেন, কী করতে পছন্দ করেন, কোথায় থাকেন, পরিবার-পরিজন সম্পর্কিত কথাবার্তা, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের নাম-ঠিকানা এসবই ব্যক্তিগত তথ্য। কারণ এতে করে অন্য মানুষটি খুব সহজেই আপনাকে খুঁজে বের করতে পারেন। মানুষটি ভালো না হলে এতে আপনার বিপদের সম্ভাবনা বাড়বে। সুতরাং সতর্ক থাকুন।
সবার জন্য ছবি উন্মুক্ত রাখা
এই ভুলটি অনেকে না জেনেই করে থাকেন। আবার সতর্কভাবে অনলাইন ব্যবহার না করলেও এই বোকামি অনেকেই করেন। অনলাইনে ছবি দেওয়ার ব্যাপারে অনেক সতর্ক হতে হবে। আপনি সামান্য পরিচয়ে যাকে আপনার ছবি দিচ্ছেন, তিনি তা অশ্লীল কোনো ছবিতে ব্যবহার করতে পারেন। নিজের ছবি ফেসবুকে বা অন্য কোথাও দেওয়ার পর তা অবশ্যই সবাইকে দেখানোর জন্য উন্মুক্ত রাখাও নিরাপদ নয়।
চ্যাটিংয়ে কারো সম্পর্কে খারাপ কিছু বলা
অনেকেই আছেন, যারা বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিচিত মানুষের সঙ্গে চ্যাটিংয়ের সময় অন্য কারো সম্পর্কে খারাপ কথা বলে থাকেন। এটাও একটি বড় ধরনের বোকামি। এতে করে আপনি অনেক বড় ঝামেলায় জড়িয়ে যেতে পারেন। কারণ এই চ্যাটিং যদি অন্য কারো সামনে চলে আসে; কিংবা আপনি যাকে বিশ্বাস করে বলেছেন, সেই মানুষটাই যদি অন্য কারো কাছে এসবের স্ক্রিন শট দেন, তবে আপনি বিপদে পড়ে যাবেন। যত ভালো বন্ধুই হোক কিংবা যত ভালো পরিচিতিই থাকুক না কেন, কারো সম্পর্কে অনলাইনে খারাপ কিছু বলবেন না।
নতুন পরিচিত বন্ধুর সঙ্গে সারাক্ষণ চ্যাটিং
এই ভুলটি অনেকেই করেন। দু-একদিনের পরিচিত নতুন বন্ধুর সঙ্গে অনেকেই সারাদিনই চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে কথা চালিয়ে যান। এটি অনেক বড় একটি বোকামি। কারণ এতে করে আপনার দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে আপনার নতুন বন্ধুটি। এতে আরো ফল হতে পারে ভয়ানক।
ভিডিও চ্যাটিং করা
অনেকেই আছেন, যারা সামান্য পরিচিত মানুষের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করে থাকেন। কয়েক দিনের পরিচিত মানুষ হলেও এ কাজটি করা একদম বোকামি। কারণ এতে করে আপনার অনেক ছবি তুলে রাখা যায়। এমনকি ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে আপনার ঘরের অনেক কিছু অন্য পাশের ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। এর মাধ্যমে আপনি নিজেই তাকে ব্ল্যাকমেইল করার নানা উপকরণ দিয়ে দিচ্ছেন। খুব ঘনিষ্ঠ মানুষ ছাড়া ভিডিও চ্যাট করা অনুচিত।
অল্পদিনের পরিচয়ে দেখা করা
অনলাইনে দু-তিন দিনের পরিচিত কোনো মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া অনেক বড় বোকামি। কারণ যে মানুষটির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, তাকে আপনি ভালোমতো জানেনই না। খারাপ মানুষ হলে ছিনতাই ও ধর্ষণ এমনকি খুনের মতো বিপদে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পারেন। সুতরাং সতর্ক থাকুন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

