গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শনিবার । এ উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে অর্ধলক্ষাধিক লোক সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী।
ভোরে ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'সকাল ৮টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির কর্নেল অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।’
দুপুর আড়াইটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল হোসাইনিয়া মাদরাসার সামনে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ৫০ হাজার লোক জমায়েত করা হবে। দলের আমির নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বিকাল ৩ দিকে ফেনী এসে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, লংমার্চকে ঘিরে কোনো ধরনের যানজট ও ভোগান্তি যেন না হয়, সেজন্য ফেনীর মোহাম্মদ আলী বাজার থেকে সমিতি বাজার পর্যন্ত ২০টি স্থানে দলীয় স্বেচ্ছাসেবী টিম কাজ করবে। পাশাপাশি সড়কের একপাশ বন্ধ রেখে অন্যপাশ স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার পথসভাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন।
এ দিকে শুক্রবার বাদ মাগরিব জেলার সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নে লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে বের করা ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিলে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনার পর রাতে নেতাকর্মীদের বাড়িতেও বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাত ১২টায় জেলা জামায়াতের প্রচার বিভাগ অভিযোগ করেছে সন্ধ্যায় যেসব নেতাকর্মীরা মিছিল করেছিল তাদের ঘর-বাড়ি টার্গেট করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে৷
এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফেনী সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। তবে কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নাদেরুজ্জামান ও সেক্রেটারি মুহাম্মাদ শিহাব উদদীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ স্বাগত মিছিল চলাকালে দুর্বৃত্তদের এ ধরনের হামলা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে।
জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের প্রতি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ধলিয়া ইউনিয়নসহ সদর উপজেলার সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও জনগণকে শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, সন্ধ্যায় স্বাগত মিছিলে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। এগুলো কারা করছে, আপনারাই ভালো জানেন। এখন মাঠে কারা আছে, তা সবাই জানে। বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
রাত সোয়া ২টায় এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ‘যতটুকু শুনেছি বাজি ফুটানো হয়েছে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-0d2ec4-720x405.webp)